এপিক নম্বর আলাদা হলেও ভোটার লিস্টে ৪ জায়গায় নাম একই ব্যক্তির!
বর্তমান | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: এত কাঠখড় পুড়িয়ে তৈরি করা ভোটার তালিকা ধরা পড়ল বড়ো সড়ো ত্রুটি! একই বুথে একজন ব্যক্তির ভোটার লিস্টে চার জায়গায় নাম। চারটি নামের পাশে পৃথক এপিক নম্বর। ওই ভোটারের নাম ও বাবার নাম, বয়স একই থাকলেও চার জায়গায় দু’টি ভিন্ন ছবি ব্যবহার হয়েছে। তৃণমূল ও কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশে ভোট চুরির জন্য ‘ত্রুটি’ রেখেছে কমিশন। রাজ্যের বিদায়ী শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে যায় শিল্পাঞ্চলে। আসানসোলের এসডিও অঘোরকুমার রায় বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ২৮১ নম্বর আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৭১ নম্বর পার্টে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। তালিকায় দেখা যাচ্ছে রবি চৌধুরী পিতা ঈশ্বর দয়াল চৌধুরী। আসানসোল পুরসভার ৭৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই ব্যক্তির ভোটার তালিকা অনুযায়ী বয়স ৪৫। তালিকায় তাঁর নামের পাশে এপিক নম্বর ‘এওজে ৩০৩৫৬১৫’। ওই ভোটার তালিকায় ঠিক নীচেও তাঁরই নাম রয়েছে। সেখানে বাবার নাম, ঠিকানা, বয়স সব এক। ছবিটি আলাদা হলেও দেখে বোঝা যাচ্ছে দুটি ছবি একই ব্যক্তির। সেখানে এপিক নম্বর ‘এওজে ৩০৬৪৭১৪’, তালিকার ডান পাশের ঘরে ভোটার হিসাবে আবার রবি চৌধুরীর নাম। নাম, ঠিকানা এমনকি দ্বিতীয় ছবির সঙ্গে তৃতীয় নামের পাশের ছবিটিও এক। পার্থক্য শুধু এপিক নম্বরে। এক্ষেত্রে রবি চৌধুরীর পাশে থাকা এপিক নম্বরটি হল ‘এওজে ৩০৬৫১৩৩’। রবি চৌধুরীর নামে চতুর্থ এপিক নম্বর ‘এওজে ৩০৬৬৩৭০’। এই আসনের তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটক দুঁদে আইনজীবী। তিনি কড়া চিঠি দিয়েছেন কমিশনের অধীনে থাকা এই বিধানসভা কেন্দ্রের রির্টানিং অফিসার তথা আসানসোলের মহকুমা শাসক অঘোরকুমার রায়কে। মলয়বাবুর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের মেশিনারিকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটার ঢোকানো হচ্ছে সঠিক ভোটারদের বাদ দিয়ে। ফর্ম ৬ মাধ্যমে দু’নম্বর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা দেখা যাচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ত্রুটি।