• আদি বিজেপি নেতার দোকানে ভাঙচুর, এবার কামারহাটিতে গেরুয়া শিবিরে মুষলপর্ব
    বর্তমান | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বরানগরের পর কামারহাটি! বিজেপির মুষলপর্ব চলছেই! নিজেদের কোন্দলে ক’দিন আগে বরানগরে রক্তাক্ত হয়েছিলেন বিজেপির এক আদি নেতা। ফের গোষ্ঠী কোন্দলে মুখ পুড়ল গেরুয়া শিবিরের। এবার টিকিট বণ্টনে আর্থিক লেনদেন ও প্রার্থীর ‘তৃণমূল যোগ’ নিয়ে সরব হওয়ায় এক বিজেপি নেতার দোকানে তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল। কামারহাটির বিজেপি প্রার্থীর অনুগামীরা ওই আদি বিজেপি নেতার দোকানে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। যদিও বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।

    কামারহাটির বাসিন্দা অমিতাভ রায় কলকাতা শহরতলি জেলা কিষাণ মোর্চার সহ সভাপতি। পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নওদাপাড়া এলাকায় তাঁর দোকান রয়েছে। সেই দোকানেই তাণ্ডব চালানো হয়। অমিতাভবাবুর অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী অরূপ চৌধুরীর দলবল এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ‘দলের দীর্ঘদিনের কর্মীদের উপেক্ষা করে অরূপবাবুকে প্রার্থী করা হয়েছে। এই প্রার্থী বাছাইয়ে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাছাড়া, বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে আমাদের প্রার্থীর সুসম্পর্ক রয়েছে।’ তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে অরূপবাবুর ছবি দেখিয়ে তাঁর প্রশ্ন, ‘এমন মানুষ কীভাবে প্রার্থী হতে পারেন? এনিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে।’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘অরূপ চৌধুরী এলাকায় দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন না। ২০২১ সালে স্বল্প সময়ের উপস্থিতির পর হঠাৎ সংগঠনের উচ্চস্তরে উঠে যান। পুরানো কর্মীদের বঞ্চিত করে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাই প্রার্থী বদলের দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ই-মেলের মাধ্যমে নেতৃত্বকে জানিয়েছিলাম। তাতে কোনো লাভ হয়নি। উলটে এসব খবর পেয়ে অরূপবাবুর অনুগামীরা আমার দোকানের সামনে তাণ্ডব চালিয়েছে।’ তিনি বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ দেখিয়ে বলেন, ‘দল বলছে, ভয় নয় ভরসা। অথচ কামারহাটিতে ভরসা নয়, ভয়ের রাজত্ব তৈরি করা হয়েছে। আমি ভালোবেসে বিজেপি দল করেছি। দলেই থাকব। কিন্তু অরূপ চৌধুরীকে সমর্থন করব না। বরং নির্দল প্রার্থী ইমানুর রহমানকে সমর্থনের কথা বলেছি।’ এ প্রসঙ্গে বিজেপি প্রার্থী অরূপ চৌধুরী বলেন, ‘ওঁকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনিও না। কী কারণে তিনি এসব বলছেন, তাও বলতে পারব না। ওঁর অভিযোগ ভিত্তিহীন। দলের বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্ট দেখেই সর্বোচ্চ নেতৃত্ব আমাকে প্রার্থী করেছে। আমার জায়গায় অন্য কেউও হতে পারতেন। সেক্ষেত্রে আমরাও দলের প্রার্থীকে জেতাতে ঝাঁপিয়ে পড়তাম। দলকে জেতানোর জন্যই কর্মীরা রাতদিন কাজ করছেন। কোথাও কোনো বিতর্ক নেই।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)