• নববর্ষের ভোট-উত্তাপে বাঙালি অস্মিতায় শান তৃণমূলের
    বর্তমান | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলা নববর্ষ। নতুন বছর উপযাপনে চিরকালই এ দিন থাকে উৎসবমুখর। এবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বিধানসভা ভোট। ফলে বুধবার সর্বত্র পাঞ্জাবি-লাল পাড় শাড়ি-রসগোল্লা-রবীন্দ্রসঙ্গীত আর ভোট প্রচার ঘিরে সাজ সাজ রব। প্রচারের ময়দানে বাঙালিয়ানা তুলে ধরে বাংলার অস্মিতায় এদিন শান দিয়েছে তৃণমূল। শহরজুড়ে চোখে পড়েছে ঝলমলে শোভাযাত্রা, প্রভাতফেরি। তাতে বাঙালি অস্মিতার অহঙ্কারই ফুটে উঠেছে বারবার। একই ছবি দেখা গিয়েছে সিপিএমের প্রচারেও। অন্যদিকে ভোট বলে বিজেপিও এদিন বাঙালি সাজার মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে। তা দেখে কলকাতার একাধিক বাসিন্দা বলেছেন, ‘অন্য রাজ্যে বাঙালি হওয়ার অপরাধে পরিয়াযী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার চালায়। আর ভোট এলে বাঙালি সাজে।’ সিপিএম বিষয়টিকে ‘তামাশা’ বলে কটাক্ষ করেছে। তৃণমূল বলেছে, ‘বিজেপি হল বাংলা-বাঙালির শত্রু। এখন ভোটে নাটক করতে নেমেছে।’    

    নববর্ষে চমকপ্রদ প্রচারটি করেন টালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস। গড়িয়ার ব্রহ্মপুর থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। তারপর গোষ্ঠতলা মোড়, তালতলা মোড়, নারকেলবাগান, বাসনা কালী মন্দির হয়ে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র মঞ্চ উদ্যানে তা শেষ হয়। মিছিলের সামনে রুই মাছ হাতে ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। মাছ হাতে ছিলেন ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সন্দীপ দাসও। তাঁরা রাজনৈতিক পতাকা রাখেননি। গড়িয়া বইমেলা কমিটির আয়োজন করেছিল এই পদযাত্রার। বাঙালি পোশাক পরে তাতে পা মেলায় বহু মানুষ। শোভাযাত্রার জন্য ৩০টি রুই মাছ নিয়ে আসা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। 

    চেতলার সিআইটি কোয়ার্টার ও নবনীড়ে প্রচার করেন ফিরহাদ হাকিম। ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে জনসংযোগ করেন তিনি। নবনীড়ে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের আর্শীবাদ চান। বেলেঘাটা সরকার বাগান এলাকায় রোড শো করেন তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ। বড়ো শোভাযাত্রা হয় জোড়াসাঁকোতে। উপস্থিত ছিলেন জোড়াসাঁকোর তৃণমূল প্রার্থী বিজয় উপাধ্যায়। প্রচারে বেরিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাংলা ক্যালেন্ডার বিলি করেন শ্যামপুকুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা।

    বাঙালি সাজতে কসুর করেনি বিজেপিও। ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি থেকে শ্যামবাজার কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রার আয়োজন হয়েছিল তারা। একটি গাড়ির মাথায় ওঠেন শ্যামপুকুরের বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, জোড়াসাঁকোর বিজয় ওঝা, মানিকতলার তাপস রায়, চৌরঙ্গীর সন্তোষ পাঠক। এই শো’তে ছিলেন বিরোধী দলনেতা। বালিগঞ্জ কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী আফরিন বেগম লাল-সাদা শাড়ি পরে যান গড়িয়াহাট ট্রাম ডিপোয়। ট্রামযাত্রা ও ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে হওয়া ট্রামযাত্রার সূচনায় অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে এই পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ চালু করতে সচেষ্ট হব।’ পাশাপাশি ট্রামযাত্রার সূচনা অনুষ্ঠানে ছিলেন বালিগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শতরূপা বোসও। কসবার সিপিএম প্রার্থী দীপু দাস নববর্ষের শোভাযাত্রায় অংশ নেন। বিজেপি প্রার্থীদের বাঙালি সাজার বিষয়টিকে কটাক্ষ করে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘যারা মাছ খাওয়া বন্ধ করতে চায় সেই বিজেপির পরেশ রাওয়ালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলাম। গুজরাতের নির্বাচনের সময় বলেছিলেন, আপনার বাড়ির পাশ থেকে মাছ ভাজার গন্ধ পেতে চান? এখন চাপে পড়ে বাংলায় বাজার থেকে মাছ কিনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটাই তামাশা। ভোট বলে বাঙালিয়ানা দেখাচ্ছে, এখন ধরা পড়ে গিয়েছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)