সংবাদদাতা, বজবজ: প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। এই সময়কালে বজবজ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের প্রচারে প্রতিপক্ষ বিজেপিকে কয়েক যোজন পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে শাসকদল তৃণমূল। প্রচারের কৌশল, দেওয়াল লেখা, ফ্ল্যাগ-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো পাশাপাশি বড়ো ও ছোটো ছোটো পথসভা, পাড়া বৈঠক, রোড শো’র মাধ্যমে প্রচারে ঝড় তুলেছে ঘাসফুল শিবির। যা দেখে বিজেপির নীচুতলার কর্মীরা হতাশ। তাঁদের অনেকের ইচ্ছা থাকলেও দলের হয়ে প্রচারে নামতে বিশেষ উৎসাহ দেখাচ্ছেন না। ফলে বজবজের বিজেপি কর্মীদের মধ্যে গা-ছাড়া ভাব স্পষ্ট।
যদিও পদ্মপার্টির প্রার্থী ডাঃ তরুণ আদকের এদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। তিনি সকাল-বিকাল নিজের অনুগতদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। বিজেপির ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলার এক পদাধিকারীর কথায়, দলের প্রার্থী খাটছেন, ঠিকই। কিন্তু গোটা দলকে প্রচারে নামাতে পারেননি। নিজের পছন্দের লোকজন, আর কয়েকজন পদাধিকারীকে নিয়ে প্রচার করছেন। এই শক্তি নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এঁটে ওঠা যাবে না। ভোটযুদ্ধে আসল চাবিকাঠি হল টিম গেম। সেটাই এখানে অনুপস্থিত। ওই পদাধিকারীর কথায়, ভোট এলেই বিজেপি পথে নামে। সারা বছর কোনো কর্মসূচি না থাকলে সংগঠনকে ধরে রাখা মুশকিল হয়ে পড়ে। বজবজে সেটাই হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী তরুণ আদকের হয়ে জোরদার লড়াই দিয়েছিলেন পদ্ম শিবিরের লোকজন। কিন্তু ভোটের পর যখন দলীয় কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছিলেন, তখন এই প্রার্থীকে আর দেখা যায়নি। তাহলে কোন ভরসা কর্মীরা সঙ্গ দেবেন তাঁকে? ভোট এসে গেলেও বজবজের পাঁচটি মণ্ডলের মধ্যে দু’টি সক্রিয়ভাবে প্রচারে নেমেছে। বাকি তিনটি মণ্ডলের নেতা-কর্মীরা এখনও প্রার্থীর প্রচারে সেভাবে শামিল হননি।
বিজেপির বজবজ বিধানসভা নির্বাচনি কমিটির ইনচার্জ হরিকৃষ্ণ দত্ত বলেন, বিগত দিনে আমাদের দলের অনেকের উপর অত্যাচার হয়েছে। তাই এবার অন্য কৌশলে এগতে হচ্ছে। যা ফাঁকফোকর রয়েছে, তা শীঘ্রই ভরাট হয়ে যাবে।