ভোটের বিতর্কে মানুষের মন কাড়ছে দিদির লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ‘বিহার, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশে মুখ থুবড়ে পড়েছে এমন প্রকল্প’
বর্তমান | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ‘দিদি, তোমার এই মাসের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকেছে?’ ‘হ্যাঁ, আর তিনমাসের জমানো টাকা দিয়ে বাড়ির একটা জিনিসও কিনেছি। ভাগ্যিস দিদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ব্যবস্থা করেছিলেন। না হলে ওটা তো কিনতেই পারতাম না।’ বুধবার সকালে উলুবেড়িয়ায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ট্রলি ভ্যানে করে পেয়ারা বিক্রি করা দুই মহিলার কথা কানে এল। কৌতুহলবশত আর্থিক অবস্থার কথা জিজ্ঞাসা করতে দুই মহিলার উত্তর, ছোট ব্যবসা। আগেকার মতো বিক্রিও এখন নেই। কোনোরকমে দিন চলে। দিদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ব্যবস্থা করেছিলেন বলে কিছুটা সুরাহা হয়েছে। ৫০০ টাকা বেড়ে ১৫০০ টাকা হয়েছে। ছেলেমেয়েদের কিছু কিনে দিতে পারছি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ওই টাকা তো আরও বাড়িয়ে দেবে বলেছে। এই কথায় দুই মহিলার উত্তর, ভোটের আগে সবাই ওইরকম প্রতিশ্রুতি দেয়। ভোট মিটলে আর তাদের পাত্তা পাওয়া যায় না। তাই যেটা পাচ্ছি, সেটাই ভালো। বেশি লোভ করে লাভ নেই। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে টানতে এখন প্রতিশ্রুতির বন্যা বইছে রাজ্যে। রাস্তাঘাট থেকে পানীয় জল, বাড়ি থেকে ব্রিজ, খাল সংস্কার থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সাহায্য– পাড়ায় পাড়ায় তর্ক-বিতর্ক থেকে আলোচনায় এসবের কোনো কিছুই বাদ যাচ্ছে না। যদিও সব ইস্যুকে টেক্কা দিয়েছে তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সঙ্গে বিজেপির অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তুলনা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দেড় হাজার টাকা বনাম অন্নপূর্না ভাণ্ডারের তিন হাজার টাকার প্রতিশ্রুতিতে ভরে উঠছে দেওয়াল। এমনকী বাড়ির উঠোন থেকে পুকুরঘাট, পাড়ার ক্লাবঘর থেকে দোকান-বাজার, সর্বত্রই এখন এই নিয়ে আলোচনা।
তবে আলোচনায় শাসকদলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অধিকাংশ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের প্রতিশ্রুতি সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারছে না। যেমন আমতার বাসিন্দা গৃহবধূ অনিতা সামন্তের সাফ কথা, দিদি কথা রেখেছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকা বেড়ে দেড় হাজার হয়েছে। আগামী দিনে আরও বাড়বে। সুতরাং অন্য কিছু চিন্তা করে লাভ নেই। শ্যামপুরের গাদিয়াড়ার বাসিন্দা হাসিনা বিবিরও এক মত। বললেন, আগে মাস শেষের দিকে সংসারের টুকিটাকি জিনিস কেনা নিয়ে চিন্তায় থাকতাম। দিদির লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সেই চিন্তা দূর করেছে। তাই অন্যের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভাবছি না। উদয়নারায়ণপুরের বাসিন্দা অশোক গায়েনের বক্তব্য, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যেভাবে মহিলাদের কাছে বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা করে নিয়েছে, সেই জায়গা অন্য কোনো প্রকল্প নিতে পারবে না। তাঁর দাবি, এর আগেও বিহার, দিল্লি কী মধ্যপ্রদেশে মহিলাদের জন্য এইরকম আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেগুলি আদপে বাস্তবায়িত হয়নি। এমনকী পরিবারের সদস্যদের যে কোনও একজনের স্মার্ট ফোন বা মোটরবাইক থাকলে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, বাড়িতে ফ্রিজ বা রঙিন টিভি থাকলেও আয়ুষ্মান ভারত পাওয়া যাচ্ছে না। নিজস্ব চিত্র