চুঁচুড়ায় স্মৃতি ইরানিকে এনেও জমল না ভিড়, মাঝপথে নেত্রী চলে যাওয়ায় ক্ষোভ
বর্তমান | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানি আর বাংলা নতুন বছরের সকাল। যুগলবন্দিতে ভোট মরশুমের চুঁচুড়ায় সাড়া ফেলতে চেয়েছিল বিজেপি। বাস্তবে হল ঠিক উলটো। লাভের কড়ির থেকে লোকসানের ভার বেশি হয়ে গেল। প্রচারের মাঝপথে মাঠ ছাড়লেন স্মৃতি, কর্মসূচিকে ঘিরে প্রকাশ্যে এল দলের গোষ্ঠীবিবাদ। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভিড় জমাতে না পারা এবং প্রত্যাশিত ভিড় না হওয়ায়, বিপাকে পড়তে হল আয়োজকদের। কর্মীমহলেও ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। বিশেষ করে সময়ের আগে স্মৃতি ইরানি কর্মসূচি ছেড়ে যাওয়ায় কর্মীদের ক্ষোভ তুঙ্গে উঠেছে। জেলা সদর চুঁচুড়ার ঘড়িমোড়ের সভাও ওই কারণে বাতিল করতে হয়েছে।
দিনকয়েক আগে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ঘড়িমোড়ে বড়ো জমায়েতের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। সেদিনও ভিড় জমেনি। এদিন শেষপর্যন্ত সভা হয়নি। রাজনৈতিক মহলের দাবি, স্মৃতি ইরানি ও অন্নপূর্ণ ভাণ্ডারের টোপ দিয়েও কপাল ফেরেনি পদ্মপার্টির। উলটে দিন সাতেক আগের হতাশার স্মৃতি এদিন আবারও ফিরেছে। পদ্মপার্টির প্রার্থী সুবীর নাগ বলেন, স্মৃতি ইরানির অন্যত্র কর্মসূচি ছিল। সেই কারণে তিনি চলে গিয়েছেন। আর ঘড়িমোড়ে সেই অর্থে কোনো সভা ছিল না। এদিন স্মৃতি ইরানির সঙ্গে বিজেপির বর্তমান সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের না থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দল সূত্রে জানা গিয়েছে, গৌতমবাবু ঘড়িমোড়ের মঞ্চে ছিলেন। কিন্তু স্মৃতি ইরানি মাঝপথে মিছিল ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিনিও ঘড়িমোড়ের মঞ্চ ছাড়েন। গৌতমবাবু বলেন, যে দায়িত্ব নিয়েছিলাম তা পালন করেছি। এনিয়ে বিতর্ক অর্থহীন। তাতে অবশ্য রাজনৈতিক বিতর্কে দাঁড়ি পড়ছে না। তৃণমূল কংগ্রেসের চুঁচুড়ার প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, ওঁদের কোনো দোষ নেই। দিল্লি থেকে তারকা নেত্রী এসেছেন। তাঁকে দেখতেও যে ভিড় জমবে না, সেটা তিনি ভাবতে পারেননি। তাই ক্ষোভ হওয়া স্বাভাবিক। মানুষ বিজেপি পাশে থাকতে চাইছে না, এই সত্যটা পদ্মপার্টি মেনে নিতে পারছে না। অনেকে আবার সুবীর নাগের পাশে থাকতে চাইছেন না। সত্যকে অস্বীকার করা কি সম্ভব? এদিনের বিজেপির কর্মসূচির ডামাডোল সেই সত্যকে প্রকাশ্যে এনেছে।
প্রসঙ্গত, অন্নপূর্ণ ভাণ্ডার নিয়ে প্রচারের উদ্দেশ্যে স্মৃতি ইরানি চুঁচুড়ায় এসেছিলেন। প্রার্থী সুবীর নাগকে নিয়ে তিনি সুসজ্জিত মিছিল করে জেলা অফিস থেকে ঘড়িমোড়ে আসবেন, সেটাই কর্মসূচি ছিল। কিন্তু এদিন মিছিলের লোক জমায়েত করতেই ঘাম ছোটে নেতাদের। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে মিছিল শুরু হয়। পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে ঘড়িমোড় পর্যন্ত আর আসেননি স্মৃতি ইরানি। আর তাতেই দলের অন্দরে ডামাডোল শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্মৃতি ইরানির ভূমিকা কর্মীমহলে বিপুল অসন্তোষ ছড়িয়েছে। নিজস্ব চিত্র