নিজস্ব প্রতিনিধি, বিষ্ণুপুর: ছিল জনসভা। কিন্তু সভা প্রাঙ্গণ এমনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল, যা নজর কেড়েছে আমজনতার। বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতির এক টুকরো কোলাজ উঠে এসেছে সভাস্থলে।
বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দিলীপ মণ্ডলের সমর্থনে পৈলানে জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মূল বক্তা ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যেহেতু এদিন ছিল বাংলা নববর্ষ, তাই বাংলার চিরন্তন পরম্পরা, ঐক্য তুলে ধরা হয়েছে সভা প্রাঙ্গণে। ঢাক বেজেছে। ধামসা, মাদলের ছন্দে এক নতুন দিনের বার্তা। মাথায় ঘট নিয়ে নৃত্যের উপস্থাপনা। আরও দেখা গিয়েছে, সভাস্থলে সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকরের প্রতিকৃতি। এছাড়াও সমাজ সংস্কারক, মনীষীদের আবক্ষ মূর্তি রাখা ছিল সভাস্থলে। সভা প্রাঙ্গণে মাদার টেরেজা ও গৌতম বুদ্ধের মূর্তিও রাখা ছিল। এই দুটি মূর্তি দেখে পছন্দ হয়নি অভিষেকের। পরে তাঁর নির্দেশমতো মাদার টেরেজা আর গৌতম বুদ্ধের মূর্তি দুটি মঞ্চের উপরে নিয়ে আসা হয়। বাংলার মনীষী ও সমাজ সংস্কারকদের মূর্তিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন অভিষেক।
সভামঞ্চের ঠিক পাশে একটি জায়গায় সবুজ প্রকৃতিকে তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে বাঘ, হরিণ সহ পশুপাখির মডেল রাখা ছিল। জঙ্গলের সবুজ পরিবেশের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। সাধারণত কোনো জনসভায় এমন সুন্দর ছবি দেখতে পাওয়া যায় না। সেখানে বিষ্ণুপুর নয়া দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। যেহেতু দক্ষিণ ২৪ পরগনার সেরা পর্যটনস্থল সুন্দরবন, সেই সূত্রেই মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের উপস্থাপনা সভা প্রাঙ্গণে। অভিষেক উল্লেখ করেন, আমরা মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকি। আবার বাংলার সংস্কৃতি ও চিরন্তন ঐক্যকে বজায় রাখি। তেমনই সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশকে সুন্দরভাবে সভাস্থলে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
এদিন সভাস্থলে জনপ্লাবনের ছবিও ধরা পড়েছে। বিষ্ণুপুর বিধানসভা এলাকার জন্য কী কী উন্নয়ন করা হয়েছে, তার রিপোর্ট কার্ড পেশ করেছেন অভিষেক। এমনকি সভায় অভিষেক তথ্য পেশ করেন, বিষ্ণুপুর সহ ডায়মন্ডহারবার লোকসভায় রাস্তা, পানীয় জল, বাড়ি, হাইমাস্ট লাইট সহ কী কী উন্নয়ন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ডায়মন্ডহারবারে ৬২০০ কোটি টাকার উপরে কাজ হয়েছে। আগামী দিনে আরও উন্নয়ন হবে। তারজন্য দিলীপ মণ্ডলকে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী করার আহ্বান বিষ্ণুপুরবাসীর কাছে রেখেছেন তৃণমূলের সেনাপতি। আর তৃণমূল প্রার্থী দিলীপ মণ্ডলের কথায়, আমরা কাজে বিশ্বাসী। কাজ করি বলেই মানুষ আমাদের পাশে থাকেন। তাই মানুষের সমর্থন নিয়ে কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই আমরা।