• নববর্ষের বার্তায় বিজেপির এজেন্সি-জুলুমের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিকভাবে বদলার ডাক মমতার, ১ বৈশাখে ‘বাঙালি সাজার’ মরিয়া চেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর
    বর্তমান | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবছর ভোটযুদ্ধে মধ্যেই জোর কদমে চলল পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা। বুধবার নববর্ষের সকালেই সমাজন মাধ্যমে ভিডিয়ো বার্তায় সকলকে শুভেচ্ছা জানান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে ‘বাংলার উপর অত্যাচার, জুলুম’ চালানোর অভিযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিকভাবে বদলা নেওয়ার ডাক দিলেন মমতা। ১৪৩৩-এ গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হয়ে প্রত্যেকটি ভোট বিজেপির বিরুদ্ধে দিয়ে বাংলার জয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘দিল্লির জমিদারেরা অনেক অত্যাচার করছে, ভোট কাটছে, অন্যায় ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। সব এজেন্সি দিয়ে বাংলার উপর জুলুম অত্যাচার করছে। এই অত্যাচারের বদলা নিন। দয়া করে আপনারা ভোট দিন। সকাল সকাল ভোট দেবেন। নিজের ভোট নিজে দেবেন। জয় বাংলা!’

    অন্যদিকে, বিধানসভা ভোটের মুখে আরো বেশি বাঙালির কাছে পৌঁছানোর মরিয়া চেষ্টায় আছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার পয়লা বৈখাশ উপলক্ষ্যে সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে বাংলাভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোদি। পাশাপাশি বিজেপির পরিচিত স্লোগান ‘জয় শ্রীরাম’ বাদ দিয়ে ‘জয় মা কালী’ শব্দবন্ধ দিয়ে লম্বা-চওড়া ভোটমুখী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের ধারা বইবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সক্রিয়তা নিয়ে কটাক্ষ ছুড়েছে তৃণমূল। 

    নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তার শুরুতেই সম্প্রীতির রক্ষার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, ‘বাংলার একটা ঐতিহ্য, গরিমা আছে। এটা আমাদের বাংলার নববর্ষ। সঙ্গে অনেক রাজ্যেরও নববর্ষ। সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। বাংলা সম্প্রীতি, সংহতির, সংস্কৃতির পীঠস্থান। আসুন, শান্তি-সম্প্রীতি-সংস্কৃতির বার্তা দিয়ে আমরা নতুন ভোর নিয়ে আসি।’ একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, দাঙ্গা নয়, অত্যাচার নয়, রক্ত নয়। ওরা দিল্লি থেকে চমকাচ্ছে। কোনো চমকানি নয়। গণতন্ত্রের পীঠস্থান হচ্ছে নির্বাচন। এটা মানুষের ভোটের উৎসব। মানুষের রায়ই ঠিক করবে ভবিষ্যতের পথ। শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগই হোক মূল লক্ষ্য। এদিন বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইস্যুও উঠে আসে মমতার কথায়। এদিনও এসআইআরের কারণে মানুষের হয়রানির ইস্যুতে কেন্দ্র-কমিশনকে আক্রমণ করতে ভোলেননি মমতা। তাঁর কথায়, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, এসআইআরের জন্য যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের জন্য আমার মন কাঁদছে। আমি জানি, একটা পরিবারে চারজন ভোট দেবেন, একজন পারবেন না, সেটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি নিজে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছি। ৩২ লক্ষের নাম তুলতে পেরেছি। বাদবাকি যাঁরা আছেন, তাঁদের নামও আশা করি ভবিষ্যতে উঠবে। কারণ, ট্রাইবুনাল চলছে। 

    অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তরফে এদিন ই-মেল মারফতও পয়লা বৈখাশের লিখিত শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছেন বহু বিজেপি নেতা ও সাধারণ মানুষ। সেই মাধ্যমেও ‘বাঙালি সাজার’ কষ্টকর প্রচেষ্টার সাক্ষী থেকেছেন সংশ্লিষ্ট প্রাপকরা।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)