• বাংলায় আগুন লাগাচ্ছে বিজেপি: মমতা, ‘তৃণমূল নেতাদের গাড়ি তল্লাশি হলে মোদি-শাহের কেন হবে না?’
    বর্তমান | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, ইসলামপুর, শিলিগুড়ি ও মালবাজার: ‘বাংলায় আগুন লাগাচ্ছে বিজেপি।’ উত্তরের মাটিতে দাঁড়িয়ে ‘রণংদেহি’ মেজাজে এমন চড়া সুরেই নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহকে বিঁধলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্র বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিচ্ছে বলে দাবি করে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘আমাদের একজনও নেতা যদি গ্রেপ্তার হন, তাহলে আপনাদের হাজার নেতা গ্রেপ্তার হবে।’ 

    বাংলার আসন্ন নির্বাচনকে আর সাধারণ ভোটযুদ্ধে আটকে রাখেনি বিজেপি। বিরুদ্ধে অভিযোগ, সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবহার করছে গেরুয়া শিবির। আর তাতে নবতম সংযোজন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী সহ তৃণমূল নেতাদের পরিবারের লোকজনের গাড়িতেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তল্লাশির নির্দেশ। এতেই জ্বলে উঠেছেন নেত্রী। বুধবার ইসলামপুরের নির্বাচনি জনসভা থেকে তাঁর প্রশ্ন, ‘তৃণমূল নেতাদের গাড়িতে তল্লাশি হলে মোদি, শাহের গাড়িতে কেন হবে না? আধাসেনার গাড়িতেই বা কী আছে, কেন খতিয়ে দেখা হবে না?’ মমতার দাবি, কোন গাড়িতে করে ভিন রাজ্য থেকে কী ঢুকছে, সব খবর রয়েছে তাঁর কাছে। তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে প্রচারে আসার আগে দমদম বিমানবন্দরে আমার গাড়িতে তল্লাশি চালানোর জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজন জওয়ান এগিয়ে এসেছিলেন। আমি তৎক্ষণাৎ গাড়ি ছেড়ে দিয়ে তল্লাশি চালাতে বলি।’ এ ঘটনায় তৃণমূল সুপ্রিমো যে যথেষ্টই ক্ষুব্ধ, তা বুঝিয়ে মমতার খোলা চ্যালেঞ্জ, ‘ক্ষমতা থাকলে আমার গাড়িতে তল্লাশি চালান। এদিন তো তল্লাশি চালাতে এসেছিলেন। আমি গাড়ি ছেড়ে দিয়েছিলাম। কেন করলেন না? তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন, তৃণমূল নেতাদের গাড়িতে তল্লাশি চালালে মোদি-শাহের গাড়িতেও করতে হবে।’ তাঁর সরাসরি আক্রমণ, ‘নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ দলবল নিয়ে বাংলায় এসে চমকানোর চেষ্টা করছেন। বাংলায় আগুন জ্বালাতে এসেছে বিজেপি। আমি কারও থেকে এক কাপ চা খাই না। আমাকে চমকাতে এসেছে! যতই চমকাও, আমাকে আটকাতে পারবে না। বাংলাকে টার্গেট করেছ, বাংলার মানুষ তাদের শক্তি বুঝিয়ে দেবে।’ 

    ইসলামপুরের সভা শেষ করে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে শিলিগুড়ি ও চালসায় রোড-শোয়ে শামিল হন তৃণমূল নেত্রী। সর্বত্রই জনসমুদ্রে ভাসেন তিনি। শিলিগুড়ি জংশন থেকে হাসমিচক পর্যন্ত দু’কিমির কিছু বেশি পথে তৃণমূল নেত্রীকে দেখতে হিলকার্ট রোডের দু’ধারে উপচে পড়ে ভিড়। মিছিলে ছিলেন শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়ার দলীয় প্রার্থীরা। ব্যারিকেডের ওপার থেকে কাতারে কাতারে মানুষ হাত বাড়িয়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমোর উদ্দেশে। চালসার টিয়াবনে মমতার কপ্টার যখন পৌঁছায়, ডুয়ার্সের জঙ্গলপথে সন্ধ্যা নেমেছে। কয়েক পশলা বৃষ্টিও হয়েছে। কিন্তু সেসব উপেক্ষা করেই রাস্তার দু’ধারে তৃণমূল নেত্রীকে স্বাগত জানিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। মঙ্গলবাড়ি থেকে চালসা গোলাই পর্যন্ত হাঁটেন মমতা। তাঁর ‘পাশে থাকা’র বার্তা দিতে দুপুর থেকে অপেক্ষা করছিল মালবাজার ও নাগরাকাটার মানুষ। সর্বধর্ম সমন্বয়ের সুর বেঁধে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে রোড-শোয়ে পা মেলান পুরোহিত, ইমাম, বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এবং চার্চের ফাদার। বলেন, আমরা চাই, বাংলায় যেমন সবাই মিলেমিশে রয়েছেন, আগামী দিনেও তেমনভাবেই থাকেন। পদযাত্রা শেষে চালসা গোলাইয়ে ডুয়ার্সের বিভিন্ন জনজাতির শিল্পীরা নৃত্যের মাধ্যমে বরণ করে নেন মমতাকে। 
  • Link to this news (বর্তমান)