• হাতে মাছ নিলে বাঙালি হয় না! বিজেপিকে তোপ অভিষেকের
    বর্তমান | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • রাহুল চক্রবর্তী, বিষ্ণুপুর: মাছে-ভাতে বাঙালি! খাদ্যতালিকায় মাছ নেই, এমন বাঙালি বাস্তবিকই বিরল। আর ভোটমুখী বঙ্গে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসও অন্যতম ইস্যু! তৃণমূল অনেক দিন ধরে বলে আসছে, ‘বাঙালি বিদ্বেষী’ বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসেও কোপ বসাবে। তাই বাঙালিয়ানা বজায় রাখতেও বিজেপিকে পরাস্ত করা প্রয়োজন। এই আবহে বুধবার, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে দেখা গেল, মাছ হাতে নিয়েই প্রচারে নেমে পড়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। ভিন রাজ্যের বিজেপি নেতা পাত পেড়ে খাচ্ছেন মাছ-ভাত! গেরুয়া শিবিরের একাধিক প্রার্থী রীতিমতো ধুতি-পাঞ্জাবি পরে হাতে প্রমাণ সাইজের রুই-কাতলা ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়ে। কিন্তু হাতে মাছ নিলেই কি কেউ বাঙালি হয়ে যায়? এই মোক্ষম প্রশ্নটি তুলে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির এভাবে বাঙালি ‘সাজার’ চেষ্টাকে কটাক্ষ করে অভিষেক বর্ণপরিচয়ের স্রষ্টা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে ফেলার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন। 

    বছরের প্রথম দিনে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিষ্ণুপুর ও বজবজ বিধানসভা কেন্দ্রে কর্মসূচি করেন অভিষেক। বিষ্ণুপুরের তৃণমূল প্রার্থী দিলীপ মণ্ডলের সমর্থনে পৈলানে সভা ছিল তাঁর। বজবজের তৃণমূল প্রার্থী অশোক দেবের সমর্থনে চড়িয়াল মোড় থেকে পূজালি পেট্রল পাম্প পর্যন্ত রোড শো করেন তিনি। দুটি কর্মসূচিতে আম জনতার বিপুল সমর্থন দেখে অভিষেক দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘বৈশাখ মাস শেষ হওয়ার আগেই বিজেপি ভোকাট্টা হয়ে যাবে।’ 

    বারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীকে এদিন ধুতি-পাঞ্জাবি পরে হাতে মাছ নিয়ে এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়। বন্দর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংকে দেখা গেল, দু’হাতে দু’টি বিশাল সাইজের মাছ নিয়ে ‘পোজ’ দিচ্ছেন। তিন রকম মাছের পদ সাজিয়ে তৃপ্তিভরে খেতে দেখা গেল ত্রিপুরা থেকে আসা বিজেপি নেতা বিপ্লব দেবকে। আবার স্মৃতি ইরানির মন্তব্য, ‘ইলিশ মাছ নিয়ে আসুন। কাঁটা বেছে খাইয়ে দেব।’ বিজেপির এই মৎস্য-প্রীতি দেখে সাধারণ মানুষও কিঞ্চিত হতবাক। এই প্রেক্ষিতে অভিষেক বলেন, ‘মাছ খেলে নাকি মোগল হয়ে যায়! বাঙালিকে এমন অসম্মান করেছেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু নববর্ষে দেখলাম, সেই বিজেপি নেতারাই বাঙালি প্রেম দেখাতে হাতে রুই-কাতলা-ইলিশ ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন। হাতে মাছ নিলেই কেউ বাঙালি হয় না! ওই বিজেপি নেতাদের ভোটে হারার পর মাছ বিক্রেতাদের পাশে বসিয়ে মাছ বিক্রি করাব।’ 

    এদিকে, রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখে তৃণমূল নিশ্চিত, নির্বাচনে তাদের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অভিষেকের খোলা চ্যালেঞ্জ, ‘বুকের পাটা থাকলে ৪ মে অমিত শাহ বাংলায় থাকুন। বাংলার সবুজ আবিরের উল্লাসটা দেখে যান। ফল ঘোষণার দিন বেলা ১২টার পর বিজেপি নেতাদের মুখটাও সবাই দেখতে পাবেন। যে বিজেপি গায়ের জোরে বাংলা দখলের চেষ্টা করছিল, তারা হাড়ে হাড়ে টের পাবে, বাংলার মানুষের কী ক্ষমতা আছে।’ 

    এই ভোটে নির্বাচন কমিশন বিজেপির সহযোগী সংস্থা হিসাবে কাজ করছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। সেই সূত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে অভিষেকের মন্তব্য, ‘মেঘনাদের মতো আড়ালে না থেকে ভোটে লড়াই করতে পারতেন। হাতে আর ১৯ দিন বাকি। দেখব, ৪ মে-র পর আপনি কোথায় থাকেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)