• ভোট-বিধি উড়িয়ে মহিলাদের ৩ হাজারি টোপ বিজেপির, সূচনা স্বয়ং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর, জেলায় জেলায় মোদির ছবি দেওয়া ফর্ম সই করানো শুরু গেরুয়া শিবিরের
    বর্তমান | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: দিল্লি, বিহারের পর এবার বাংলা! মহিলা ভোট জোগাড়ের মরিয়া চেষ্টা! বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বাংলার মহিলাদের ‘তিন হাজারি’ টোপ দেওয়া শুরু করে দিল বিজেপি। আর আদর্শ আচরণ বিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। ২০১৪ এবং ২০১৯’এর লোকসভা নির্বাচনে ভরসা থাকলেও, এবার বিভাজনের পর্বে ‘ইস্তাহার’ শব্দে আপত্তি বিজেপির। তাই সংকল্পপত্র। কলকাতায় এরই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সংকল্পপত্রে বাংলার মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার ঘোষণা করেছিল বিজেপি। বুধবার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং দলের নেত্রী স্মৃতি ইরানিকে দিয়ে তিন হাজারি টোপের ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ বিলির সূচনাও করিয়েছে বিজেপি। কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে স্মৃতি ইরানি পাঁচ মহিলার হাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি সাঁটা গেরুয়া ফর্ম তুলে দিয়েছেন। কালনায় ১০ জন তন্তুবায় মহিলাকে কার্ড বিলি করছেন নির্মলা।  

    এই দুই কর্মসূচি পর্বেই দুর্গাপুর, রানিগঞ্জ, ঝাড়গ্রাম, বনগাঁ, বাগদা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ওই কার্ড বিলি শুরু করেছেন পদ্মপার্টির নেতা-কারিওকর্তারা। কোথাও প্রচার করা হয়, আগামী ১০ দিনে মিলবে টাকা। আবার কোথাও বলা হয়, ভোট শেষ হওয়ার পরেই অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে মোদিজির উপহার। মহিলাদের আধার কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর ও ছবি সংগ্রহের কাজও শুরু হয়ে যায়। নির্বাচনি পর্বে পুরো মাত্রায় চালু রয়েছে আদর্শ আচরণ বিধি। সেই বিধি অনুযায়ী এভাবে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কার্ড বিলি করা যায় না। এই খবর সামনে আসা মাত্রই ইসলামপুরের প্রচার সভা থেকে গর্জে ওঠেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, ‘নির্বাচনের সময় কার্ড বিলি করছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। নির্বাচনের নিয়ম ভাঙছে বিজেপি। আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করছি, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন।’ এদিন বিকেলে তৃণমূলের তরফে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিত অভিযোগ করেন জ্ঞানেশ কুমারের কাছে।  

    দিল্লি জয়ের পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণা ছিল, দিল্লির প্রত্যেক মহিলার অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে ২৫০০ টাকা। তা এখনও হয়নি। সেই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘দিল্লির কথা মনে করুন। আজও কেউ টাকা পাননি।’ এদিন বাগদার হেলেঞ্চায় বিজেপি কার্যালয়ের সামনে একটি জেরক্সের দোকান থেকে তিন হাজারি টোপের কার্ড বিলি হয়। বনগাঁয় তা বিলি করা হয় রেলবাজার এলাকার একটি লজ থেকে। দুর্গাপুর ও রানিগঞ্জে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কার্ড বিলি করেন বিজেপি প্রার্থী ও কর্মীরা। দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি, ‘আগের নির্বাচনে তৃণমূল তো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম বিলি করেছিল। তখন নির্বাচন বিধি ভঙ্গ হয়নি!’ যদিও ভোটের মধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম বিলির কোনোরকম রেকর্ড নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একুশের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। তার যাবতীয় কাজ শুরু হয় তৃণমূল সরকারে আসার পর।
  • Link to this news (বর্তমান)