• আসন পুনর্বিন্যাস ‘ষড়যন্ত্র’ রুখতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল, ভোটপ্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেও দিল্লিতে ২০ সাংসদ
    প্রতিদিন | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • আজই সংসদের বিশেষ অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল। যা নিয়ে রাজধানীর অলিন্দে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তুঙ্গে। মহিলা আসন সংরক্ষণে সমর্থন বজায় রেখেও ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী শিবির। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘চতুর চক্রান্তে’র অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ডিলিমিটেশনই আসল এজেন্ডা, মহিলা সংরক্ষণ কেবল অজুহাত।” দলনেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরে তৃণমূল জানিয়েছে, তারা বরাবরই মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের পক্ষে। কিন্তু বর্তমান বিল কার্যকর করতে ডিলিমিটেশনকে শর্ত হিসেবে জুড়ে দেওয়াই আপত্তির মূল কারণ।

    মহিলা বিল এর উপর আলোচনায় আজ লোকসভায় কংগ্রেসের তরফে দলের মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার বক্তব্য রাখতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বলার জন্য দলের পুরনো লড়াকু সৈনিক এবং মহিলা মুখকে বেছে নিয়েছে শাসক দল। এছাড়াও প্রতিমা মণ্ডল এবং জুন মালিয়াও এই বিল নিয়ে সংসদে তৃণমূলের পক্ষ রাখবেন। যেহেতু এই সময় রাজ্যে ভোট। তাই তৃণমূলের অধিকাংশ সাংসদ ভোটের প্রচারে ব্যস্ত। তা সত্ত্বেও দিল্লিতে এই বিশেষ অধিবেশনে অন্তত ২০ তৃণমূল সাংসদ উপস্থিত থাকতে পারেন বলে খবর। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়দের মতো সিনিয়র সাংসদরা থাকবেন। কংগ্রেস অবশ্য দলের সব সাংসদকে উপস্থিত থাকার জন্য হুইপ জারি করেছে। আরেক ভোটমুখী রাজ্য তামিলনাড়ুর ডিএমকে-র সব সাংসদও হাজির থাকবেন সংসদে।

    কেন্দ্রের প্রস্তাব অনুযায়ী ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বাস্তবায়নের আগে লোকসভা আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ করা হতে পারে। একইসঙ্গে রাজ্য বিধানসভাগুলিতেও ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদের অধিবেশন ঘিরে সরকার বনাম বিরোধীদের সংঘাত যে চরমে পৌঁছবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের আশঙ্কা, নতুন করে লোকসভা আসন সংখ্যা বাড়ানো এবং জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন কার্যকর হলে দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে, বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে।

    এদিকে এসবের মধ্যে বিল পেশের আগেই বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার সকালেই সোশাল মিডিয়ায় তিনি লিখে দিয়েছেন, “আজ থেকে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশন আমাদের দেশের নারী ক্ষমতায়নের জন্য ঐতিহাসিক। আমাদের মা-বোনেদের সম্মান দেশের সম্মান। সেই ভাবনাকেই আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)