• মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস বিল পেশ, শুরুতেই প্রতিবাদে সরব বিরোধীরা
    এই সময় | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রত্যাশা মতোই বিশেষ অধিবেশনের শুরুতেই উত্তপ্ত সংসদ। তীব্র বিতর্কের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সংসদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করল কেন্দ্র সরকার—সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬, ডিলিমিটেশন বিল, ২০২৬ এবং ইউনিয়ন টেরিটরিজ আইন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬।

    শুরুতেই আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল লোকসভায় সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল এবং আসন পুনর্বিন্যাস বিল, ২০২৬ উত্থাপন করার প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ উত্থাপন করার প্রস্তাব করেছেন। বিল উত্থাপন প্রক্রিয়া শুরু হতেই বিরোধী বেঞ্চ থেকে শুরু হয় হট্টগোল। কংগ্রেস নেতা কেসি ভেনুগোপাল এর বিরোধিতা করে তাকে ‘ফেডারেলিজমের উপর আক্রমণ’ বলে আখ্যা দেন। সমাজবাদী পার্টির তরফে অখিলেশ যাদব প্রশ্ন তোলেন, ‘কেন জনগণনা এবং জাতি গণনা সম্পূর্ণ হওয়ার আগে এই বিল পেশ করা হচ্ছে?’ জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘ইতিমধ্যেই জনগণনা ও জাতিগণনার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। ২০২৭ আদমসুমারিতেই তা হবে। তবে আমাদের সংবিধান কোনও ভাবেই ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের অনুমতি দেয় না।’ এখানেই শেষ নয়, কেসি বেণুগোপালের বিরোধিতার জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,‘মহিলাদের সংরক্ষণকে পূর্ণতা দিতে এই দু’টি বিল একসঙ্গে আনা হয়েছে।’ কিন্তু কেন এখনই এই বিল পেশ হচ্ছে তাঁর কোনও উত্তর এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত দেননি শাহ।

    এ দিন পেশ হওয়া বিলগুলির মূল লক্ষ্য দেশের নির্বাচনী মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা এবং মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ কার্যকর করা। এই প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী বিল অনুযায়ী লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০ করা হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ৮১৫টি আসন রাজ্যগুলির জন্য এবং বাকি আসনগুলি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য নির্ধারিত হবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং দীর্ঘদিনের অসাম্য দূর করার কথা বলা হচ্ছে।

    একইসঙ্গে এই বিলের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করা। এতদিন ১৯৭১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন বণ্টন স্থির ছিল, কিন্তু নতুন প্রস্তাবে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের পথ খুলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে আসন সংখ্যা বদলে যেতে পারে এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

    ডিলিমিটেশন বিলের মাধ্যমে একটি নতুন ডিলিমিটেশন কমিশন গঠন করা হবে, যা সংসদ ও বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাস করবে এবং নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করবে। এই কমিশনে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং রাজ্যের নির্বাচন কমিশনাররা থাকবেন।

    এই তিনটি বিলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার পরিকল্পনাও। ২০২৩ সালে পাশ হওয়া ‘নারী শক্তি বন্দন আইন’ বাস্তবায়নের জন্যই এই ডিলিমিটেশন জরুরি বলে কেন্দ্রের দাবি। নতুন আসন বৃদ্ধি না হলে বিদ্যমান আসনে সংরক্ষণ কার্যকর করা কঠিন হবে—এই যুক্তিও সামনে আনা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)