প্রশান্ত ঘোষ, ভাঙড়
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত গোটা রাজ্যজুড়ে যখন পদ্ম বনাম জোড়াফুলের লড়াই জমে উঠেছে, সেখানে ভাঙড়ে লড়াইটা তৃণমূলের সঙ্গে আইএসএফ-এর। ২০২১-এর নির্বাচনে এই আসন হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। হারানো জমি পুনরুদ্ধারে এ বার বিশেষ জোর দিচ্ছে শাসক দল। ১৮ এপ্রিল বাসন্তী রাজ্য সড়ক লাগোয়া ভোজেরহাট মাঠে ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লার সমর্থনে সভা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক সাত দিন পরে, ২৫ এপ্রিল শোনপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সভা করবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। সেক্ষেত্রে এ বারের নির্বাচনে ভাঙড় হবে একমাত্র বিধানসভা এলাকা, যেখানে সভা করতে চলেছেন মমতা-অভিষেক দু'জনেই।
ও রাজনৈতিক মহলের মতে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে মমতা অভিষেকের জোড়া সভা তৃণমূলকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ জোগাবে। ভোজেরহাটে মমতার সভার জন্য ইতিমধ্যেই সভাস্থলের পাশে হেলিপ্যাড তৈরির কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি ট্র্যাফিক ব্যবস্থা ও মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছেন পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকরা। শোনপুরে অভিষেকের সভার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনেও ভাঙড়ে ভালো ফল করেছিল আইএসএফ। যদিও ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে কয়েক হাজার ভোটে এগিয়ে যায় তৃণমূল। ফলে লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হবে, তা মানছেন তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লাও। তাঁর কথায়, 'ভাঙড়ে কঠিন লড়াই হবে, তবে শেষ পর্যন্ত জিতবে তৃণমূলই। দিদি ও অভিষেকের সভা কর্মীদের বাড়তি অক্সিজেন দেবে।'
আইএসএফ-এর পাল্টা দাবি, ভাঙড়ে উন্নয়নের অভাবই তাদের পক্ষে জনমত গড়ছে। রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জলের সমস্যাকে ইস্যু করে আইএসএফ প্রচার চালাচ্ছে। পাশাপাশি, শাসক দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগও তুলছেন আইএসএফ নেতৃত্ব। দাবি করছেন, যুব ও মহিলা ভোটের বড় অংশই তাঁদের দিকে ঝুঁকছে।
জমি কমিটি সমর্থিত সিপিআই (এমএল) মাস লাইন প্রার্থী মির্জা হাসান কত ভোট পান সেটাও দেখার। ২০২১-এ তিনি প্রায় পাঁচ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। এ বার সেই ভোট বাড়ে কি না এবং তা কার ক্ষতি করে-সেদিকেও নজর থাকবে। ভাঙড়ের হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক, বিশেষ করে নিউটাউন সংলগ্ন বামনঘাটা, বেওতা ১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ভোটাররা কার দিকে থাকেন সেটাও দেখার। পরিসংখ্যান বলছে এই বিধানসভার প্রায় তিন লক্ষ ভোটারের মধ্যে আশি হাজার হিন্দু ভোট। সেই ভোট গেরুয়া শিবির পাবে বলে দাবি করছে।
এ বারের নির্বাচনে ভাঙড় যেমন আইএসএফ-এর শক্ত ঘাঁটি, তেমনই ক্যানিং পূর্বেও চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে আইএসএফ। সেখানে প্রার্থী হয়েছেন একদা তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলাম। তিনি লড়ছেন তৃণমূলের বাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এই দুই কেন্দ্রেই বিজেপি ও কংগ্রেস তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় লড়াইটা মূলত তৃণমূল বনাম আইএসএফ-এর।