এই সময়, ভাতার: থানায় নির্দিষ্ট ভাবে অভিযোগ থাকায় ভাতার থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে রামচন্দ্রপুর এলাকার বিজেপির যুব মোর্চার স্থানীয় নেতা রঞ্জিত মালিককে গ্রেপ্তার করতে যায়। কিন্তু সেখানে পুলিশকে পড়তে হয় বাধার মুখে। এই ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় রায় রামচন্দ্রপুর গ্রামে।
ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে ভাতার থানার অধীনে থাকা ওড়গ্রামে পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, পুলিশ বিনা কারণে তৃণমূলের কথা শুনে ওই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে প্রার্থী সৌমেন কাফার নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ ওঠে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়েছিল রঞ্জিতকে গ্রেপ্তার করতে। যে কারণে এত উত্তেজনা, তার সূত্রপাত রবিবার। অভিযোগ, ভাতারের সাহেবগঞ্জ-১ অঞ্চলের কাশীপুর গ্রামের বাসিন্দা জহর বাগ নামে স্থানীয় এক বিজেপি নেতাকে তৃণমূলের লোকজন মারধর করে। সেই ঘটনার প্রত্বাদ জানিয়ে অভিযুক্তদের সৌমেনের নেতৃত্বে ভাতার থানার ঝরনা মোড় অবরোধ করা হয়।
প্রায় ৪০ মিনিটের ওই অবরোধে রাত ১টা নাগাদ অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা রোগীকেও যেতে দেওয়া হয়নি। অভিযোগ, ওই রোগীর পরিবারের সদ্যসরা বার বার অনুরোধ করলেও তোলা হয়নি অবরোধ। ওই ঘটনায় জীবন রায় নামে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ।
সোমবার সকালে কাশীপুর গ্রামের বাসিন্দা, সাহেবগঞ্জ-১ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ফুলকলি বাগ বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে বাড়িতে ভাঙচুর ও মারধরের পাল্টা অভিযোগ করেন। বিজেপি কর্মীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত এক তৃণমূল কর্মীকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পাল্টা অভিযোগের প্রেক্ষিতেই পুলিশ অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে হেনস্থার মুখে পড়ে। যদিও রঞ্জিতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রঞ্জিত বলেন, 'পুলিশ আমাদের বাড়িতে ঢুকে বেধড়ক মারধর করেছে। মহিলাদের টানাটানি করেছে। শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত লেগেছে আমার। মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ আমাকে ধরেছে।' জানা গিয়েছে, রঞ্জিতকে ধরার পরে পাড়ার লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশকে ঘিরে ফেলেন। জনতার মারমুখী মেজাজ দেখে পুলিশ সরে আসে। জেলার পুলিশ সুপার সায়ক দাস বলেন, 'পুলিশ সব ক্ষেত্রেই আইন মোতাবেক কাজ করেছে। কোথাও কারও উপরে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেনি। বাকি বিষয়গুলি নিয়ে তদন্ত চলছে।'