কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়
আজ থেকে অন্তত ৪৬০ কোটি বছরেরও আগে যখন সূর্য তৈরি হয়েছিল, তখন সূর্যের সঙ্গেই তৈরি হয়েছিল আরও অনেক মহাজাগতিক বস্তু। তারই মধ্যে ছিল ধূমকেতু 'সি/২০২৫ আর–থ্রি'–ও।
তবে জন্ম ৪৬০ কোটি বছরের আগে হলেও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এর সন্ধান পেয়েছেন অতি সম্প্রতি — ২০২৫–এর সেপ্টেম্বরে। সৌরজগতের সীমা শেষ হওয়ার অনেকটাই পরে, সূর্য থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি কিলোমিটার দূরে শুরু হয়েছে রহস্যময় 'উর্ট কমেট ক্লাউড' অঞ্চল। কোটি কোটি হিমশীতল পাথুরে মহাজাগতিক বস্তু এই 'মেঘ' এলাকার বাসিন্দা হিসেবে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে।
'সি/২০২৫ আর–থ্রি' এখানকারই সদস্য ছিল। এই প্রথম এবং শেষ বারের জন্য ওই ধূমকেতু সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে আসছে। আগামীকাল শুক্রবার এই ধূমকেতুকে সূর্যোদয়ের ঘণ্টা দেড়েক আগে দেখা যাবে পূর্ব আকাশে। ১৯ এপ্রিল অর্থাৎ এই রবিবার ধূমকেতুটি সূর্যের খুব কাছে থাকবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ওই দিন সূর্যের প্রবল আকর্ষণে এই ধূমকেতুটির চূর্ণ–বিচূর্ণ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। কাজেই নিজের মৃত্যু পরোয়ানা সঙ্গে নিয়েই যে সূর্যের দিকে এগোচ্ছে 'সি/২০২৫ আর–থ্রি' — এমনটআ বলাই যায়।
সূর্যের সমবয়সী এবং একই উপাদান দিয়ে তৈরি এই ধূমকেতু নিয়ে সারা পৃথিবীতেই রাতের আকাশে আগ্রহীদের প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজ়িক্স (আইসিএসপি)–র প্রতিষ্ঠাতা জ্যোতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তী 'এই সময়'–কে বলেন, 'একাধিক কারণে এই সি/২০২৫ আর–থ্রি ধূমকেতুটি আকর্ষণের কারণ হয়েছে। প্রথমত, এর গতিপথ পরাবৃত্তাকার (হাইপারবোলিক) হওয়ায় এই ধূমকেতু আর কখনও সূর্যের দিকে আসবে না। একে দেখার এই একটি মাত্র সুযোগ আমরা পেতে চলেছি। এ ছাড়া এই ধূমকেতুটি কোন কোন উপাদানে তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। সবচেয়ে বড় কথা, কলকাতার আকাশ থেকে এপ্রিলের বাকি সময়টা একে বেশ ভালো ভাবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে— যদি ১৯ এপ্রিলের পরেও ধূমকেতু টিকে থাকে তা হলে।'
সামনের কয়েকদিন কলকাতা–সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জায়গাতেই ঝড়–বৃষ্টির বিশেষ সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। তাতেই রাতের আকাশ নিয়ে উৎসাহ বেড়েছে আগ্রহীদের। কলকাতার সংগঠন 'স্কাই ওয়াচার্স অ্যাসোসিয়েশন'–এর পক্ষ থেকে দীপঙ্কর দে বলেন, 'কলকাতার আকাশ অত্যন্ত দূষিত। রাতের আকাশের উজ্জ্বলতা এবং মহাজাগতিক বস্তুর দৃশ্যমানতা পরিমাপের জন্য বর্টল স্কেল নামে একটি ন'স্তরের সংখ্যাসূচক মানদণ্ড আছে। এর দ্বারা নির্দিষ্ট কোনও এলাকার আলোক দূষণের মাত্রা নির্দেশ করা যায়। কলকাতা এই স্কেল অনুযায়ী সবচেয়ে খারাপ জায়গায় (লেভেল নাইন)–এ রয়েছে। এর পরেও কলকাতার আকাশে খালি চোখেই এই ধূমকেতু দেখা যাবে। সুতরাং রাতের আকাশ যাঁদের টানে, তাঁরা এই সুযোগ ছাড়বেন না।'