নাসিকে TCS-এর বিপিও ইউনিটে (BPO Unit) ধর্মান্তকরণ (Conversion) চক্র ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চমকে দেওয়ার মতো সব তথ্য। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এক পুরুষ কর্মী দাবি করেন, ‘আমাকে বলেছিল, সন্তান হচ্ছে না যখন, তোর বৌকে আমার কাছে পাঠিয়ে দে।’ গোলমালের জেরে নাসিকের (Maharashtra, Nashik) ওই বিপিও-র অফিস আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন কর্মীরা।
২০২২ সালে বিপিও-তে যোগ দিয়েছিলেন ওই কর্মী। কিন্তু অফিসের প্রথম দিন থেকেই তাঁকে চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। আঙুল তুলেছেন টিম লিডার তৌসিফ আত্তার, এবং দানিশ শেখের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, আপাতত দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই কর্মী বলেন, ‘টিম লিডার হওয়ায় আমাকে যা খুশি তাই বলত। নমাজ পড়তে বাধ্য করত। অফিসেও ফেজ টুপি পরে আসতে বলত। জোর করে কলমা পড়াত।’
টিম লিডাররা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তি করতে ছাড়তেন বলে বলে অভিযোগ ওই কর্মীর। তৌসিফের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে তিনি বলেন, ‘টিম লিডার মাঝে মধ্যেই বলতেন, চিকিৎসা করিয়েও যদি বাচ্চা না হয়, তা হলে বৌকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিস।’ অন্যদের কাজ তাঁর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেছেন ওই কর্মী। তবে শুধু ওই পুরুষ কর্মী নন, নাসিক পুলিশের কাছে FIR-এ দানিশের বিরুদ্ধে অফিসের মধ্যে জোর করে চুমু খাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন এক মহিলা কর্মীও।
এ দিকে নাসিকের ওই বিপিও-র বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠতেই অফিস বন্ধ করে দিল TCS। বৃহস্পতিবার থেকে সেখানকার সব কর্মীকে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বছরের পর বছর ধরে ধর্মান্তকরণ, মহিলাদের শ্লীলতাহানি, যৌন হেনস্থার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার জেরে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিপিও-র কয়েকজন কর্মী। তার পরেই ছদ্মবেশে অফিসে হানা দেন মহিলা পুলিশ অফিসাররা। সেখানে মূল অভিযুক্তদের একজনকে মহিলা কর্মীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করতে দেখে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ।
নাসিকের পুলিশ কমিশনার সন্দীপ কর্ণিক জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ৭ জন পুরুষ কর্মী অফিসে সংঘবদ্ধ চক্রের মতো কাজ করতেন। মূলত মহিলা কর্মীরাই ছিলেন তাঁদের টার্গেট। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯টি FIR দায়ের হয়েছে। দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, শফি শেখ, আসিফ আফতাব আনসার এবং শাহরুখ শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিদা খান নামে এক মহিলা কর্মী এখনও পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।