মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে এই মুহূর্তে জুড়ে আছে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল বা ডিলিমিটেশন বিল। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে লোকসভায় তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে তা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর প্রশ্ন, কেন মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিলকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে? মমতার দাবি, এ ভাবে দিল্লির বিজেপি সরকার রাজ্য ভাগ, ভোটারদের নাম কাটা ও NRC প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত করছে।
এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মহিলা বিলের কথা বলছে। কিন্তু তার সঙ্গে ডিলিমিটেশন কেন করছ? কারণ বাংলাকে ভাগ করার চেষ্টা করছ, সারা দেশকে ভাগ করার চেষ্টা করছ। কেটে কেটে খণ্ড খণ্ড করার চেষ্টা করছ। মহিলা বিল আর ডিলিমিটেশন বিল একসঙ্গে হতে পারে না। এটা ভোট কাটা ও NRC করার পরিকল্পনা।’
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চতুর্থ দফার ভোটে কোচবিহারের শীতলকুচিতে গুলি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই ঘটনাও এ দিন মনে করিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ‘শীতলকুচিতে গতবার ভোটের সময়ে সেন্ট্রাল ফোর্স গুলি চালিয়ে চার জনকে হত্যা করেছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে এসেছিলাম।’ একই সঙ্গে মমতার বক্তব্যে উঠে আসে ছিটমহল প্রসঙ্গও।
ছিটমহল অধিগ্রহণ তাঁরই করা, এ দিন সে কথা তুলে ধরে মমতা বলেন, জানতে চেয়েছিলাম আপনারা কি ভারতবর্ষে থাকতে চান? তাঁরা চেয়েছিলেন, আমি ফিরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিই। ছিটমহলের জন্য যা যা করার সবটাই করে দিই। ঘরবাড়ি থেকে সব কিছু। আজ আপনারা নিজেদের সম্মান নিয়ে বাঁচছেন।’
নানা মেশিনারিকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বাংলা দখলের চেষ্টা করছে বলেও এ দিন ফের অভিযোগ করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর সঙ্গে মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে, তামিলনাড়ুর স্ট্যালিন, বিহারের তেজস্বী যাদব, উত্তরপ্রদেশের অখিলেশ যাদবরা যোগাযোগ করেছেন। সকলেই বাংলার সঙ্গে আছেন।
মমতা বলেন, ‘সবাই জানে বাংলার লড়াইতে বিজেপি অত্যাচার করছে। এক পক্ষ দুষ্টুমি করছে। তৃণমূলের কর্মীদের গ্রেপ্তার করবে মধ্যরাতে, এজেন্টদের অ্যারেস্ট করবে, গন্ডগোলের নামে NIA দিয়ে কেস দেবে। চার তারিখের পরে তোমাদের মুখোশ টেনে খুলে দেবো।’
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপির বুথে বসারও লোক নেই, বাইরে থেকে এজেন্সি এনে বুথে বসানোর পরিকল্পনা করছে। মমতার সংযোজন, অসমে বাইরে থেকে লোক এনে ভোট করানো হয়েছে। তাই অসম বর্ডারে নজর রাখতে হবে। ট্রেনে কারা আসছেন, সে দিকেও খেয়াল রাখার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।