দু’মাস আগেই কুড়মালি ভাষাকে কেন স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি? ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের নির্বাচনী সভায় গিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশ্ন তুললেন UCC অর্থাৎ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়েও। নির্বাচনী ইস্তেহারে বিজেপির প্রতিশ্রুতি, ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে UCC চালু করার। জনসভায় অভিষেকের দাবি, এই নিয়ম চালু করা হলে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আদিবাসী সমাজ।
ঝাড়গ্রাম জেলার অন্তর্গত গোপীবল্লভপুর আসন ২০১১ সাল থেকেই তৃণমূলের দখলে। তবে কুড়মি সমাজ এ বার দ্বিধাবিভক্ত। এ দিনের সভায় অভিষেক বলেন, ‘তৃণমূল যখন ১০ বছর আগে বলতো, এই অজিত মাহাতো, রাজেশ মাহাতোরা কুড়মি সমাজের আবেগকে নিয়ে খেলছে, মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। আপনাদের অনেকেই বিশ্বাস করেননি। আজ প্রতিষ্ঠিত দিল্লিতে কুড়মি সমাজের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ চাওয়ার নাম করে অজিত মাহাতো, রাজেশ মাহাতো ডিল করে চলে এসেছে। অজিত মাহাতো নিজের ছেলেকে দাঁড় করিয়েছেন পুরুলিয়ায় আর রাজেশ মাহাতো এই আসনে লড়ছেন।’ উল্লেখ্য পুরুলিয়ার জয়পুর আসন থেকে বিজেপি-র প্রার্থী হয়েছেন বিশ্বজিৎ মাহাতো ও গোপীবল্লভপুর আসনে বিজেপির প্রার্থী রাকেশ মাহাতো।
কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করতে দীর্ঘদিনের দাবি আদিবাসী সমাজের। বিজেপির ইস্তেহারে এ বার সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে অভিষেক এ দিন দাবি করেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই এই সংক্রান্ত আবেদন জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বলেন, ‘আপনাদের দাবিকে আমরা মর্যাদা দিই। দু’মাস আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চিঠি দিয়েছে। দু’মাস হয়ে গেলেও নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের সরকার কিছু করেনি। এতদিন কেন কিছু করেননি?’
আদিবাসী সমাজকে সতর্ক করে এ দিন UCC-র বিরোধিতা করেন অভিষেক। জনসভা থেকে অভিষেকের বক্তব্য, ‘বিজেপি বলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হবে। জোর করে আপনার উপরে চাপিয়ে দেওয়া হবে আপনি ধর্ম কী করে পালন করবেন। আপনার সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যে মাটির জন্য বাংলার বিপ্লবীরা প্রাণ দিয়েছেন, নবজাগরণের পথ দেখিয়েছিলেন, বশ্যতা স্বীকার করেনি, দিল্লি থেকে সেই মাটিকে পরিচালনা করতে চায়।’