মিল্টন সেন, হুগলি, ১৬ এপ্রিল: তৃণমূল নেত্রীর মস্তিষ্ক প্রসূত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার রাজ্যের মহিলা মহলে বিশেষ জনপ্রিয়। বিরোধী দল রাজনৈতিক কারণে প্রকাশ্যে এই প্রকল্পের প্রশংসা করে না ঠিকই। তবে প্রকল্পের সুবিধে গ্রহণ করতেও ছাড়ে না। বিরোধী দলগুলির প্রায় সকলেই এই প্রকল্পের উপভোক্তা। এই প্রথম প্রকাশ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ভীষণভাবে সমর্থন করলেন সিপিএম প্রার্থী। নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে চন্দননগরের বাম প্রার্থী বললেন, এটা বাড়ির মা, মেয়েদের স্বীকৃতি। বৃহস্পতিবার চন্দননগর পুর নিগমের এক নম্বর ওয়ার্ডের চড়কতলা এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচার করেন সিপিআইএম প্রার্থী মনীশ পণ্ডা। প্রসঙ্গত, চন্দননগর বঙ্গ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনীশ বাবু। তিনি নির্বাচনী প্রচারে এখনও পর্যন্ত এক লক্ষ আশি হাজার মানুষের কাছে পৌঁছেছেন। আর কয়েকটা দিন বাকি ভোটের। তাই দ্রুততার সঙ্গে প্রচার সারছেন। চন্দননগর কর্পোরেশন এবং ভদ্রেশ্বর পুরসভার সব ওয়ার্ডের সব পাড়া, মহল্লায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। বৃহস্পতিবার চড়কতলায় বাড়ি বাড়ি প্রচারে পৌঁছন বাম প্রার্থী। আবেদন জানান তাঁকে ভোট দেওয়ার।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার এলে সব প্রকল্পই চলবে। আমরা ভীষণভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে সমর্থন করি। ভাতা মানে হল সহায়তা। এটা বামফ্রন্ট সরকার শুরু করেছিল। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৮ এই সময়কালে বেকার ভাতা দেওয়া হত। সেটা ছিল ১৫০ টাকা। তখন দশ গ্রাম সোনার দাম ছিল ৩০০ টাকা। অর্থাৎ ওই বেকার ভাতা দিয়ে পাঁচ গ্রাম সোনা কেনা যেত। বেকার ভাতা চালু করা হয়েছিল সকলের কর্মসংস্থান করতে পারছে না বলে। পরে সেটা জনপ্রিয়তা হারায়। এসএসসি, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, প্রাথমিক স্কুলে ক্লারিক্যাল পোস্টে নিয়োগ হয়েছে প্রতিবছর। তাই এর প্রয়োজনীয়তা কমেছিল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে আমরা ভীষণভাবে সমর্থন করি। আমরা বলছি, দেড় হাজার না আরও বেশি টাকা দিতে হবে। এটা আমার বাড়ির মা মেয়েদের স্বীকৃতি দেওয়া।’ বকলমে তিনি বুঝিয়ে দেন রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের প্রতি তাঁর সমর্থন আছে।