• বাংলার ২৯৪ জন পর্যবেক্ষকের ৬২% বিজেপি-শাসিত রাজ্যের!
    আজকাল | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুই দফায় নির্বাচন হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন করতে কমিশন নিরাপত্তাজনিত যা ব্যবস্থা নিয়েছে তা দেখে শাসকদল তৃণমূল এবং নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা প্রকাশ্যে দাবি করছেন যে রাজ্যের ক্ষমতা কমিশনের দখলে চলে গিয়েছে। বিজেপিকে সাহায্য ও সহযোগিতা করার অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ইমপিচ করার বিরোধী দলের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও, নানা ঘটনায় নির্বাচন নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি।

    এই বিষয়ে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মানিকন্ট্রোল’-এ একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, প্রথমে দুই দফায় ২৪০০ কোম্পানি এবং পরে অতিরিক্ত আরও ১৫০ কোম্পানি রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। দুই দফার নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গে সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি, আরপিএফ, এনএসজি, এসএসবি এবং আসাম রাইফেলসের প্রায় ২,৫০,০০০ আধাসামরিক সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে – যা যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সর্ববৃহৎ মোতায়েন। এর আগেও রাজ্য এই দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে সারা ভারতে ৩,৪০,০০০ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। সাত দফার সেই নির্বাচনে রাজ্যে ৯২,০০০ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছিল। যা একটি রাজ্যে সর্বোচ্চ। 

    ২০২১ সালে আট দফার বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৭২,৫০০ জন জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছিল। পাঁচ বছর পরে ২০২১ সালের প্রায় সাড়ে তিন গুণ বাহিনী মোতায়েন করেছে কমিশন। তৃণমূলকে ভয় দেখিয়ে দমানো এবং যে কোনও উপায়ে জিততে মরিয়া বিজেপির মনোবল বাড়ানোই যদি উদ্দেশ্য না হয়, তাহলে এই ব্যাপক আধাসামরিক জওয়ান বৃদ্ধির নেপথ্যের উদ্দেশ্যটা কী?

    হাসির বিষয়, জম্মু-কাশ্মীর এবং মণিপুরে আইনশৃঙ্খলা খবর সকলেরই জানা। এই দুই জায়গা থেকে শ’য়ে শ’য়ে সিআরপিএফ এবং বিএসএফ জওয়ানকে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি কি ওই দুই রাজ্যের চেয়ে  খারাপ? পশ্চিমবঙ্গে কি রাষ্ট্রপতি শাসন চলেছে না কি অঘোষিত সামরিক শাসন? উত্তর কমিশনই দিতে পারবে।

    ২০২৪ সালে প্রায় এক দশক পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল জম্মু এবং কাশ্মীরে। সেই নির্বাচনে মাত্র ৯০ হাজার আধাসামরিক জওয়ানকে মোতায়েন করা হয়েছিল। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জম্মু এবং কাশ্মীরে ৬৩,৫০০ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে করা হয়েছিল ৯২,০০০। পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা সামলানো কি এতটাই চ্যালেঞ্জিং?

    প্রতিবেদনটিতে আরও লেখা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি নিজের চোখ এবং কান হিসেবে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভায় একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থেকে একজন করে আইএএস আধিকারিককে ২৯৪টি বিধানসভায় নিযুক্ত করা হয়েছে। যা সর্বোচ্চ। ২০২১ সালে নিয়োগ করা হয়েছিল মাত্র ১৬০ জনকে। এবারের ৬২% সাধারণ পর্যবেক্ষকই বিজেপি-শাসিত মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ এবং উড়িষ্যা এই পাঁচটি রাজ্য থেকে এসেছেন। সংখ্যায় ১৮৩ জন। বাকি ১১১ জন অবিজেপি-শাসিত রাজ্যের  অন্যান্য নির্বাচনমুখী রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে অনেক কম সাধারণ পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করা হয়েছে। অসমে ১২৬টি আসনের জন্য ৫১ জন, কেরলে ১৪০টি আসনের জন্য ৫১ জন, তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি আসনের জন্য ১৩৬ জন এবং পুদুচেরিতে ৩০টি আসনের জন্য ১৭ জন পর্যবেক্ষককে নিযুক্ত করা হয়েছে। সাধারণ পর্যবেক্ষকের বাইরে ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে নিয়োগ করা হয়েছে। ২০২১ সালে সংখ্যাটি ছিল মাত্র ৩৭ জন। এবার সংখ্যাটি দ্বিগুণেরও বেশি। শুধু কলকাতাতেই ছ’জন পুলিশ পর্যবেক্ষক। তুলনায় অসমে ৩৫ জন, তামিলনাড়ুতে ৪০ জন, কেরলে ১৭ জন এবং পুদুচেরিতে ৪ জন পর্যবেক্ষককে নিয়োগ করা হয়েছে।

    নির্বাচনী আচরণবিধি শুরু হওয়ার পরেই কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ রাজ্যের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে বদলি করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীতে ছয়লাপ হয়েছে রাজ্য। অন্য রাজ্য থেকে আইপিস এনে নানা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যা আগে কখনও হয়নি। ১৫ মার্চ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে। এর পর থেকে এই মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ৪৮৩ জন প্রশাসনিক আধিকারিক এবং পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। 
  • Link to this news (আজকাল)