• তৃণমূল ছাড়লেন জলঙ্গির বিধায়ক
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোটের ঠিক এক সপ্তাহ আগে তৃণমূল ছাড়লেন মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক ।দল তাঁকে এ বার প্রার্থী না করায় আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বুধবার রাতে কাঁটাবাড়িতে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে আনুষ্ঠানিকভাবে দলত্যাগের ঘোষণা করেন রাজ্জাক। পাশাপাশি দাবি করেন, জলঙ্গি-সহ মুর্শিদাবাদের ডোমকল ও রানিনগর— এই তিনটি আসনেই তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত।

    দল ছাড়ার পর রাজ্জাক তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, দলে সততার কোনও মূল্য নেই এবং অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁর এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, রাজ্জাক বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং তাঁর দলত্যাগে সংগঠনের কোনও প্রভাব পড়বে না। একই সুরে তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীও কটাক্ষ করেন।

    সম্প্রতি জলঙ্গিতে সভা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন, যা রাজ্জাক শিবিরে ক্ষোভ আরও বাড়ায়। নির্বাচনী কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় রাজ্জাক আইপ্যাক ও দলের একাংশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন।

    সাংবাদিক বৈঠকে তিনি রানিনগরের তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন, তাঁর মতে সৌমিক ডোমকল মহকুমায় প্রভাব বিস্তারের জন্য বহিরাগত প্রার্থী চাপিয়ে দিয়েছেন। যদিও সৌমিক এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব তাঁর নয়।

    রাজ্জাক নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট না করলেও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, তিনি কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। এ বার জলঙ্গিতে তৃণমূল প্রার্থী করেছে বাবর আলিকে, বামেরা দিয়েছে ইউনূস আলি সরকারকে এবং বিজেপি প্রার্থী নবকুমার সরকার। কংগ্রেসের প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্জাকের দলত্যাগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)