• মাসে একদিন ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক! সুপ্রিম কোর্টের উলটো পথে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কর্নাটক হাই কোর্টের
    প্রতিদিন | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ঋতুকালীন ছুটি দিলে কোনও সংস্থাই মহিলাদের নিয়োগ করবে না! দিন কয়েক আগেই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। এমনকী দেশজুড়ে ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার আর্জিও খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার ঠিক তার উলটোপথে হাঁটল কর্নাটক হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশ, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি, বেসরকারি এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে ঋতুকালীন ছুটি বা ‘মেনস্ট্রুয়াল লিভ’ কার্যকর করতে হবে সরকারকে।

    আসলে গত বছর অক্টোবর মাসেই কর্নাটক সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সে রাজ্যে মহিলা কর্মীরা মাসে এক দিন করে সবেতন ঋতুকালীন ছুটি পাবেন। এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে কর্নাটকের সকল সরকারি, বেসরকারি দপ্তর, বহুজাতিক সংস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মীদের জন্যে। কর্নাটক সরকারের তরফে বলা হয়, কাজের সময়ে মহিলাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য যাতে প্রভাবিত না-হয়, তা অনেকাংশে নিশ্চিত করা যাবে সরকারের ওই সিদ্ধান্তে। সমস্যা হল মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাশ হয়ে গেলেও ওই বিল বাস্তবে এখনও কার্যকর হয়নি।

    সেটারই প্রেক্ষিতে বুধবার ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ করেছে কর্নাটক হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “নারী ও পুরুষ আইনের চোখে সমান ঠিকই, কিন্তু তাঁদের জৈবিক বাস্তবতা আলাদা। সেটাকে সম্মান জানানোই প্রকৃত সমতা।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংবিধানে সমতার অধিকার সংক্রান্ত ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা রয়েছে জৈবিক পার্থক্য মেনে নেওয়া মানে সাম্যের অমর্যাদা করা নয়। ঋতুকালীন ছুটি কোনও বাড়তি সুবিধা বা ‘প্রিভিলেজ’ নয়। এটি একজন মহিলার মর্যাদা এবং তাঁর শারীরিক বাস্তবতার প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। আদালত বাড়তি জোর দিয়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্রে। কর্নাটক হাই কোর্ট বলছে, যারা দৈনিক মজুরি বা কায়িক পরিশ্রমের কাজ করেন তাঁদের জন্য এই ছুটি আরও বেশি জরুরি। কারণ তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে ন্যূনতম পরিচ্ছন্নতার মান বজায় থাকে না।

    প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সাল থেকে বিহারে মাসে দু’দিন ঋতুকালীন ছুটির নিয়ম চালু রয়েছে। কেরলের সরকারি স্কুলে ছাত্রীদের ঋতুকালীন ছুটির নিয়ম রয়েছে। ২০২৪ সালে ওড়িশা সরকার মহিলা কর্মীদের মাসে এক দিন করে ঋতুকালীন ছুটিতে সম্মতি দিয়েছিল। কর্নাটক সরকার সে পথে হাঁটলেও এখনও আইন কার্যকর করতে পারেনি। তাই হাই কোর্ট জানাল, এবার বাধ্যতামূলকভাবেই আইন কার্যকর করতে হবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)