গোরক্ষনাথ মন্দিরে কড়া নিরাপত্তা, জোড়া পুলিশ ভবনের উদ্বোধন যোগীর
প্রতিদিন | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
উত্তরপ্রদেশের নিরাপত্তা ও সুশাসনের মডেলে এক নয়া পালক জুড়ল গোরক্ষপুরে। বৃহস্পতিবার সকালে গোরক্ষনাথ মন্দির চত্বরের নিরাপত্তায় দুটি আধুনিক ভবনের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। প্রায় ৯.১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনদুটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ডেপুটি পুলিশ সুপারের দপ্তরের পাশাপাশি কন্ট্রোল রুম ও পুলিশ স্টোর রুমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মন্দির চত্বরের সুরক্ষায় নিয়োজিত পুলিশকর্মীরা এখন থেকে আরও উন্নত পরিকাঠামোয় কাজ করতে পারবেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশে পুলিশের নিয়োগ এবং পরিকাঠামো ছিল চূড়ান্ত অবহেলিত। যোগী সরকারের আমলে গত নয় বছরে প্রায় ২ লক্ষ ১৯ হাজার পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। আগে রাজ্যে প্রশিক্ষণ নেওয়ার ক্ষমতা ছিল মাত্র ৩ হাজার, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজারে। পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়ায় এখন পুলিশকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং কাজের পরিবেশ আধুনিক হয়েছে। যোগীর দাবি, নিরাপত্তা সুশাসনের প্রথম শর্ত। আর সেই শর্ত পূরণ করতেই রাজ্য সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে।
বিগত দিনের করুণ পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে পুলিশকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যারাক বা আবাসন ছিল না। অধিকাংশ আধিকারিক ভাড়া বাড়িতে থাকতে বাধ্য হতেন। তা নিয়ে নানা সময়ে অভিযোগও উঠত। বর্তমানে পুলিশ লাইন এবং থানাগুলিতে আধুনিক ব্যারাক তৈরি হয়েছে। পুলিশের জন্য উন্নত আবাসন নিশ্চিত করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, পুলিশের মনোবল বাড়ানোর জন্য এই পরিকাঠামো একান্ত প্রয়োজনীয় ছিল।
থানাগুলির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে যোগী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী ধরে আনার পর উপযুক্ত লকআপ বা পরিকাঠামোর অভাবে তারা পালিয়ে যেত। এমনকী পুলিশের ওপর দুষ্কৃতীদের হামলার খবরও পাওয়া যেত। কিন্তু এখন রাজ্যের থানাগুলো অনেক বেশি সুরক্ষিত এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন। অপরাধীরা আর পালাবার সুযোগ পাবে না। পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখালে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। গোরক্ষনাথ মন্দিরের এই নতুন নিরাপত্তা ভবন শুধুমাত্র নজরদারি নয়, বরং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গোরক্ষপুর পুলিশের কার্যকারিতা অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে বলে প্রশাসনের ধারণা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় মেয়র থেকে শুরু করে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভবনটি পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।