• খুন করে বাবরি মসজিদে কবর দেব! মরার আগে ১০০ টা লাশ পুঁতব, হুমায়ুনের মন্তব্যে কমিশনে তৃণমূল
    প্রতিদিন | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • বিজেপির সঙ্গে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) ‘ডিল’ সংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন হুমায়ুন প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ ট্রাস্টের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ মইনুল হক রানা। এবার তাঁকে খুন করে বাবরি মসজিদে করব দেওয়ার হুমকি দিলেন হুমায়ুন। পাশাপাশি তিনি মৃত্যুর আগে ১০০ টা লাশ পোঁতারও হুঁশিয়ারি দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকের পিএ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে অপমানজনক ও মানহানিকর কথা বলারও অভিযোগ উঠেছে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

    মইনুল হক রানা বেলডাঙা ২ ব্লকের বাসিন্দা। তিনি হুমায়ুন প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ পদে ছিলেন। সম্প্রতি হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপির ‘ডিল’ সংক্রান্ত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। এরপরই তাঁকে খুনের হুমকি দেন হুমায়ুন। তৃণমূলের দাবি, হুমায়ুনের এই বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে বিকৃত করতে এবং ভোটারদের মানসিকতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে তৃণমূলের নেতা, সদস্য ও সমর্থকদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি খুন করে লাশ পুঁতে ফেরার হুমকি দিয়েছেন। এই ধরনের মন্তব্য করে তিনি আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে দাবি করে তৃণমূল।

    বিতর্কিত ভিডিওতে হুমায়ুনকে বলে শোনা গিয়েছে, “বেলডাঙার দুই দিনের ছেলে আমার হাতে পায়ে ধরে কয়েকটি সভায় বক্তৃতা দিয়েছে। সুমিত রায় ফোন করেছেন বলে মনে হচ্ছে আল্লাকে পেয়ে গেছেন। ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেলে, মরার আগে ১০০ টা লাশ পুঁতব তারপর আমার কবর হবে। আমি অমিত শাহ, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee), শুভেন্দু অধিকারীদের চ্য়ালেঞ্জ করি। তুই (মইনুল হক রানা) তো চুনোপুটি। তোরা আবার বলছিস হুমায়ুন কবীর খারাপ লোক? তোর গলা চেপে তুলে এনে তোকে এই বাবরি মসজিদে কবর দেব।” এছাড়াও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করেন তিনি।

    তৃণমূলের দাবি, এই খুন করে কবর দেওয়া সংক্রান্ত মন্তব্য বিএনএসের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী কোনও ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করা, ৩৫১ ধারা অনুযায়ী ভীতি প্রদর্শন ও ১৭৪ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনের আগে প্রভাব বিস্তারের মতো অভিযোগে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ঘটনায় হুমায়ুনকে শোকজ করার জন্য নির্বাচনের কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছে তৃণমূল। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আবেদনও জানানো হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)