বনগাঁ উত্তরের বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়ার প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সুভাষপল্লি এলাকায়। তৃণমূলের লোকজন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনের গলা থেকে আচার মালা ছিঁড়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন অশোক। এর প্রতিবাদে ও দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বনগাঁ থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করছে বিজেপি। অন্যদিকে বুধবার রাতে খানাকুলের চিংড়া এলাকায় বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে বনগাঁ পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষপল্লি এলাকায় দলের সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন অশোক কীর্তনিয়া। অভিযোগ, সেই সময় প্রত্যেক মোড়ে মোড়ে তৃণমূল কর্মীরা দাঁড়িয়ে থেকে তাঁর প্রচারে বাধা দেন। এর জেরে দুই দলের কর্মী-সমর্থকরা ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠি, বাঁশ হাতে একে অপরের উপর হামলা শুরু করে। বিজেপির অভিযোগ, কাউন্সিলর পাপাই রাহা ও তাঁর দলবল এই ঘটনার পিছনে রয়েছেন। যদিও পালটা বিজেপির বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷ ঘটনার প্রতিবাদে বনগাঁ থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করছে বিজেপি।
এই ঘটনায় ৩ বিজেপি কর্মী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। গেরুয়া শিবিরের দাবি, মোট ৬ জন জখম হয়েছেন। অশোক কীর্তনিয়া বলেন, “মতুয়াদের গলার আচার মালা ছিঁড়ে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। পাপাই রাহা মতুয়া, তফসিলিদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। আমার গলার মালাও ছেড়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকায় তা করতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গ আজ জঘন্যতম জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে।” অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তফসিলি ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। যদিও পাপাই রাহা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এলাকার মহিলারা প্রশ্ন করলে তাঁদের উপর চড়াও হয় বিজেপি। তৃণমূল কর্মীদেরও মারধর করা হয়।
অন্যদিকে, বুধবার রাতে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে খানাকুলের চিংড়া এলাকা। এই ঘটনায় দুই পক্ষের ৫ জন জখম হয়েছেন। উভয়পক্ষই একে-অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। ঘটনার পর রাতেই বিজেপি প্রার্থী সুশান্ত ঘোষের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা খানাকুল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান।
তৃণমূলের অভিযোগ, কুমারচক এলাকার বাসিন্দা দুই তৃণমূল কর্মী রাতে পার্টির কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। রাস্তায় বিজেপি কর্মীরা তাঁদের পথ আটকে লাঠি, বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে খানাকুল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তৃণমূল প্রার্থী পলাশ রায়ের অভিযোগ, খানাকুলের বিজেপি প্রার্থী সুশান্ত ঘোষ এই গুণ্ডামির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রশাসন দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে প্রতিবাদে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পালটা তাদের ৩ জন কর্মীকে মারধরের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। আক্রান্তরা খানাকুল গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।