সূর্যের তেজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভোটের (West Bengal Assembly Election) পারদও চড়ছে বঙ্গে। দহনজ্বালা শুরু হয়ে গিয়েছে। ঘেমে নেয়ে একসা প্রার্থী থেকে মিছিলে পা মেলানো বা জনসভায় হাজির কর্মী-সমর্থকরা। বাড়িতে ফুলস্পিডে ফ্যান অথবা এসি চালানো দস্তুর হয়েছে আগেই। জনসভার মঞ্চেও নেতা-প্রার্থীর মাথা ঠান্ডা রাখতে ঠাঁই পেয়েছে জাম্বো ফ্যান থেকে এয়ারকুলার। এমনকী বেশ কিছু প্রচার গাড়িতেও ফ্যান চালানোর ছবি দেখছে ভোটের বাংলা।
বুধবার, নতুন বাংলা বছরের প্রথমদিন কলকাতা কাটাল ৩৩ ডিগ্রি তাপমাত্রায়। আর যে দার্জিলিংয়ে একটু ‘ঠান্ডা ঠান্ডা কুল স্কুল’ আবহে কাটাতে ছোটে মানুষ, সেখানে ১৮ ডিগ্রি। স্বস্তির এটাই, ২০১০ সালকে ছোঁয়নি গরম। সেবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪৩ ডিগ্রিতে। শীতকালে নেমেছিল পাঁচে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ছায়া থেকে তো নিজেকে সরাতে পারছে না এই বঙ্গও। হাতপাখার দিন গিয়েছে ঘর ঘর বিজলির জোগানে। এখন গাঁয়েও এসি। যুদ্ধের কারণে প্লাস্টিকের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। তামার দামও ঊর্ধ্বমুখী। তার প্রভাবে চড়চড়িয়ে বাড়ছে এসি এবং ফ্যানের দাম। দুটোর ক্ষেত্রেই প্লাস্টিক ও তামার ব্যবহার জরুরি।
এই বৈশাখের প্রথমদিন ৩৩ ডিগ্রি থাকলেও খতিয়ান বলছে, ২০২২ সালের এই এপ্রিলের শুরুতেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২১ সালে কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২০ সালে ৩৬.৫ এবং ২০১৯ সালে ৩৫,৬। ২০১৮ সালে তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৭ সালে তাপমাত্রা ছিল ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৬ সালে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৫ সালে ৩৫.৫ ডিগ্রি। ২০১৪ সালে কলকাতায় ১৫ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.১। ৪১ ডিগ্রির উপরে গত ১০ বছরে এপ্রিল মাসে দু বছরের তাপমাত্রা রয়েছে। ২০১৪ সালে ১২ এপ্রিল ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২০১৬ সালের ২৬ এপ্রিল ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২৪ সালের এপ্রিলের শেষের দিকে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে চরম তাপপ্রবাহে নাভিশ্বাস উঠেছিল সবার। তাপমাত্রা ৪৫-৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৭.২, যা গত ৬৮ বছরের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
যখন গ্লোবাল ওয়ার্মিং কথাটা খায় না মাথায় দেয় তো দূর, শোনেইনি এই দুনিয়া তখন স্বাধীনতার ঠিক এক যুগ পর, ১৯৫৯ সালের ১৫ এপ্রিল হঠাৎ করে পুরনো রেকর্ড ভেঙে ৪০.৭ডিগ্রির আগুন ঝরানো দিবারাত্রি কাটিয়েছিল রাজ্য। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এবার শীত লম্বা ইনিংস খেলেছে। তার মধ্যে হাড়হিম করা ঠান্ডা ছিল টানা কয়েকদিন। ফলে এবার গরমও তার সঙ্গে টেক্কা দিয়েই ব্যাট করবে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা। সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। ঝাড়খণ্ড এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। অসম থেকে তামিলনাড়ু পর্যন্ত বিস্তৃত উত্তর-দক্ষিণ অক্ষরেখা। এই অক্ষরেখা ঘূর্ণাবর্তের উপর দিয়ে বিস্তৃত। যার প্রভাবে বুধবার থেকেই রাজ্যে হাওয়াবদল। সন্ধেয় দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমি জেলায় ঝড়বৃষ্টি চলে। আজ, বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূমে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। শুক্রবার পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টি চলবে। ঝড়বৃষ্টির জেরে অস্বস্তি কাটবে না। বরং তাপমাত্রা আরও বাড়বে। শুক্রবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা নদিয়া, মুর্শিদাবাদ এবং বীরভূমে।