• ‘ভারতীয় হয়েও ভোটাধিকার থাকবে না?’ স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি মধ্যমগ্রামের যুবকের
    এই সময় | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • সমস্ত রকম নথি জমা দিয়েও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ। জেলা প্রশাসনের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন নিয়ে গেলেন মধ্যমগ্রামের যুবক। পরিবারের সকলকেই স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার লিখিত সেই আবেদন নিয়ে সুমিতাভ মুখোপাধ্যায় নামে ৪৩ বছরের ওই যুবক হাজির হন বারাসতে জেলাশাসকের দপ্তরে।

    বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কোড়া বাবুপাড়ার বাসিন্দা সুমিতাভ। তিনি জানান, তাঁর বাবা বায়ুসেনায় ছিলেন। নাম স্বপন মুখোপাধ্যায়। ৮০ বছর বয়স। মা ৬৭ বছর বয়সি শাশ্বতী মুখোপাধ্যায়। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে। SIR-এ পরিবারের সকলেই সব তথ্য দিয়েছেন বলেও জানান সুমিতাভ।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে দেখা যায়, সুমিতাভর নাম বাদ। অথচ তাঁর স্ত্রী মালা মুখোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে, সেখানে স্বামীর নাম হিসেবে আছে তাঁর নাম। এর পর থেকে নথি নিয়ে ছোটাছুটি চলেছে। কিন্তু সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতেও নাম ওঠেনি।

    সুমিতাভ বলেন, ‘ভারতবর্ষের নাগরিক হয়ে আমি যদি ভোট না দিতে পারি, এর থেকে চরম ব্যর্থতা আমার কাছে আর কিছু নেই। ১৯৮৩ সালে এখানে আমার জন্ম। আমাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হলে আমার গোটা পরিবার শেষ হয়ে যাবে। আমার মা, বাবা অসুস্থ। একটি ছোট ছেলে আছে। আমি নিজে অসুস্থ। জানি না আগামিদিনে কী হবে? আমরা গোটা পরিবার দিশাহীন। তাই সপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যু আবেদন করেছি।’

    তিনি জানান, BLO-কে এ নিয়ে জানিয়েছেন। জেলাশাসকের অফিসে এসে কাগজ দেখিয়েও সুরাহা হয়নি। জেলাশাসকের অফিস থেকে বেরিয়ে কার্যত ভেঙে পড়েন সুমিতাভ। রাজ্যে ৯০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। অনেকের নামই বিচারাধীন ছিল। এর পরে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হয়েছে দফায় দফায়। তাতেও নাম নেই অনেকের। এখন ভরসা ট্রাইব্যুনাল।

  • Link to this news (এই সময়)