বঙ্গের ভোটপ্রচারে বৃহস্পতিবার কোচবিহারে হাজির ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। বিজেপিশাসিত রাজ্যে মাছ-মাংস বিক্রি বন্ধ করা হচ্ছে, তৃণমূলের তোলা অভিযোগকে এ দিন অস্বীকার করেন হিমন্ত। পাল্টা অসমের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘এখানে দিদি (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ভয় পেয়েছেন। এখানে গোমাংস বিক্রি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’ রাজ্যের অনুপ্রবেশের সমস্যা নিয়েও এ দিন সরব হন তিনি।
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল-বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারে উঠে আসছে মাছ-মাংসের প্রসঙ্গ। বিজেপিশাসিত রাজ্যে মাছ-মাংস প্রকাশ্যে বিক্রি করার নিষেধাজ্ঞার বিষয়কে হাতিয়ার করে মাঠে নেমেছে তৃণমূল। পাল্টা মাছ হাতে নিয়ে প্রচারে বের হচ্ছেন বিজেপি প্রার্থীরা। এই বিতর্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হিমন্ত বলেন, ‘পূর্ব ভারতের অনেক জায়গায় মা কালীর পুজো হয়। কামাখ্যা দেবীর পুজো হয়, সেখানে বলি দেওয়া হয়। কোথাও মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে নিষেধ নেই। আসলে দিদি ভয় পেয়েছেন এখানে গোমাংস বন্ধ হয়ে যাবে। বাকি মাছ-মাংস তো অসমে বিজেপির সরকারের শাসনেও বন্ধ হয়নি।’ এই রাজ্য থেকেই সবথেকে বেশি গোরু পাচার হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বারের নির্বাচনে রাজ্যে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। রাজ্যে অনুপ্রবেশ আটকাতেই SIR করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি। হিমন্তের কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গে একাধিক জায়গায় সীমান্ত খোলা রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি দেন না। আমরা যতই অনুপ্রবেশ আটকাতে চেষ্টা করি না কেন, এই রাজ্য সেটা ব্যর্থ। উত্তর পূর্ব ভারতকে বাঁচাতে হলে রাজ্যের সীমান্তে কাঁটাতার বসানো প্রয়োজন রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার থাকলে এটা হবে না।’
বাংলায় বিজেপি সরকার হলে ত্রিপুরা, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে সীমান্তে একটি কাঁটাতারের বেড়া থাকবে এবং সেখানে ইলেকট্রিক লাগানো থাকবে। যাতে করে অনুপ্রবেশকারী এবং পাচারকারীদের রোখা যায় বলে দাবি করেন হিমন্ত। উল্লেখ্য, কোচবিহার-১ ব্লকের ফলিমারিতে বৃহস্পতিবার কোচবিহার দক্ষিণের প্রার্থী রথীন্দ্র বোসের সমর্থনে প্রচার সভা হয়।