ভারতে প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন বিল ঘিরে ‘দক্ষিণ বনাম উত্তর’ বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। দক্ষিণের মূল উদ্বেগ হলো, নির্বাচনী এলাকার এই পুনর্নির্ধারণের ফলে তারা আসনের সঙ্গে সঙ্গে প্রভাবও হারাবে। তবে, বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য বৃহস্পতিবার সংসদে জোর দিয়ে বলেন যে, ‘সরকার সব রাজ্যের অংশ সমানভাবে ৫০ শতাংশ করে বাড়াবে, যা প্রকৃতপক্ষে এই অঞ্চলের জন্যই লাভজনক হবে।’ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বিল শুধু আসন বাড়ানোর বিষয় নয়—এটি দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যই বদলে দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার, কেন্দ্র তিনটি বিল পেশ করেছে যা লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে ৩৩% মহিলা সংরক্ষণ দ্রুত বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করবে। আইনটি নিয়ে সংসদে বিতর্কের সময়ে তেজস্বী এদিন সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘বিরোধীরা দক্ষিণের রাজ্যগুলির জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা দক্ষিণ এবং ছোট রাজ্যগুলির জন্য মোদী সরকারের দেওয়া এটিই সেরা প্রস্তাব।’
কেন্দ্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, লোকসভার আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে প্রায় ৮০০–৮৫০-এ নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেই সঙ্গে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে। কিন্তু মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে আসন বণ্টনের সূত্র বা ‘ফর্মুলা’ নিয়ে।
বিরোধীদের আশঙ্কা, যদি আগের জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়, তা হলে উত্তর ভারতের জনবহুল রাজ্য—যেমন উত্তরপ্রদেশ ও বিহার—অনেক বেশি আসন পেতে পারে, আর দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়বে।
দক্ষিণের রাজ্যগুলির যুক্তি হল, তারা দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তাই এখন জনসংখ্যা-ভিত্তিক আসন বণ্টন হলে তারা ‘শাস্তি’ ভোগ করবে। অন্যদিকে, উত্তর ভারতের রাজ্যগুলি বেশি জনসংখ্যার কারণে বেশি প্রতিনিধিত্ব পাবে, ফলে সংসদে রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে যেতে পারে।
তবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই আশঙ্কা পুরোপুরি সঠিক নয়। সরকার এমন একটি মডেল বিবেচনা করছে যেখানে সব রাজ্যের আসন সংখ্যা বাড়বে (প্রায় ৫০% পর্যন্ত), কিন্তু তাদের আপেক্ষিক অংশীদারিত্ব বা অনুপাত মোটামুটি একই রাখা হবে—অর্থাৎ কেউ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
এই বিলের সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণও সরাসরি যুক্ত। ২০২৯ সালের নির্বাচন থেকে ৩৩% আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, এবং ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে এই সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব নয় বলেই কেন্দ্রের দাবি।
সব মিলিয়ে, এই বিল এখন শুধুমাত্র প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়—এটি ভারতের ফেডারেল কাঠামো, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাই সংসদে এই ইস্যু ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিল পেশ হওয়ার পরে ১২ ঘণ্টা চলবে আলোচনা। এর পরে শুক্রে বিকেল চারটেয় এই বিলের উপর ভোটাভুটির সম্ভাবনা।