ORS বা ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন— যা ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত শিশুর জীবন বাঁচাতে ‘বিংশ শতাব্দীর সেরা আবিষ্কার’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল এক সময়ে। জীবনদায়ি সেই পথ্য নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রবল বিতর্ক। হায়দ্রাবাদের খ্যাতনামা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শিবরঞ্জনী সন্তোষ ইন্ডিয়ান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স (IAP) থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভুয়ো ORS ব্র্যান্ডিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আইএপি তাঁকে সমর্থন না করে বরং সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির পক্ষ নিয়েছে।
দীর্ঘ ৮ বছর ধরে শিবরঞ্জনী লড়াই করছেন যাতে চিনি দেওয়া পানীয়গুলোকে ‘ORS’-এর নামে বিক্রি না করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নিয়ম অনুযায়ী, ওআরএস-এ চিনি ও লবণের একটি নির্দিষ্ট অনুপাত থাকতে হয়। কিন্তু অনেক জনপ্রিয় পানীয় সংস্থাগুলি সেই অনুপাত মানছে না, অথচ নামের শেষে ‘ORS’ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এ দিকে শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত শিশুর শরীরে অতিরিক্ত চিনি গেলে তা অন্ত্র থেকে জল শুষে নেয়। ফলে শরীর আরও বেশি জলশূন্য (Dehydration) হয়ে পড়ে এবং শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
Kenvue কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এখন ‘ORS’ এবং ‘eRZL’ (ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিঙ্ক) নামে দুটি আলাদা ক্যাটাগরি তৈরি করেছে। তবে ড. শিবরঞ্জনীর দাবি, নতুন নাম এবং প্যাকেজিং একেবারেই পুরোনো মোড়কের মতো। যে কারণে সাধারণ ক্রেতা বা দোকানদাররা এখনও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এই বিতর্ক শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভারতের ওষুধ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালো।