নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল যাঁদের নামে ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা এ বার ভোট দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এর জন্য সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই ঘোষণার পরেই নিজের ‘খুব খুশি’ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন সন্ধ্যা থেকেই বিষয়টিকে ‘মমতার জয়’ বলে প্রচার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্য দিকে, সুপ্রিম রায় নিয়ে বিজেপির বক্তব্য, ট্রাইব্যুনালে বিচারের পর ‘যোগ্য’ ভোটাররা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারলে, তাতে তাদের অসুবিধার কিছু নেই। আর তা শুনে মুচকি হাসছে শাসকদল।
সুপ্রিম রায়ের পরেই মমতা বলেন, ‘আই অ্যাম সো হ্যাপি...সবাইকে বলেছিলাম ধৈর্য রাখুন। অ্যাজুডিকেশন হলে আবেদন করুন ট্রাইব্যুনালে। সবাই হয়তো করেছেন। আমি নিজে কেস করেছিলাম। আমার কেসের উপর...আজ আমার থেকে খুশি আর কেউ নেই।’ সন্ধ্যায় তৃণমূলের ফেসবুক হ্যান্ডলে লেখা হয়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়, বাংলার মানুষের জয়! বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত রুখতে সুপ্রিম কোর্টে নিজে লড়েছিলেন জননেত্রী। আজ মহামান্য আদালত বাংলার মানুষের পক্ষেই ঐতিহাসিক রায় দিলেন। চক্রান্তকারীদের চোখে আঙুল দিয়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে, বিচারের বাণী কোনওদিনও নিভৃতে কাঁদবে না।’
এই ঘোষণার পরেই একটি সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে ২১ এপ্রিল এবং ২৭ এপ্রিল আরও দু'টি সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বের করতে হবে। ফলে বাঙালিকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত আজ ব্যর্থ হলো। আর বৈধ ভোটারদের ভোটদানের মৌলিক অধিকারও ফিরে এল।’
অন্য দিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানাচ্ছে বিজেপিও। বিষয়টি নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দুর্গাপুরে বলেন, ‘এটা নিয়ে আপত্তির তো কিছু নেই। দু’দিন আগেও মানুষের নাম ভোটার তালিকায় উঠতে পারে। এতে আপত্তির কি আছে?’ যদিও সুপ্রিম রায়ে মমতার প্রতিক্রিয়ার কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। তাঁর কথায়, ‘আনন্দে থাকুন, বেশি করে খাওয়া-দাওয়া করুন। বিশ্রামে থাকুন। ৪ তারিখ মানুষ বুঝিয়ে দেবে। মূল ইস্যুগুলিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।’
ভোটার তালিকা নাম নথিভুক্ত করার বিষয় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ নিয়ে কোনও জটিলতা হবে না বলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন । তাঁর বক্তব্য, ‘পুরো প্রক্রিয়াটিই অনলাইনে সম্পন্ন হবে, ফলে ভোটার তালিকায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নাম যুক্ত করার সুযোগ থাকবে।’ আজ এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মনোজ আগরওয়াল বলেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে প্রশাসনের কোনও অসুবিধা হবে না। সমস্ত আবেদন ও প্রক্রিয়া ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে।