• বোলপুরে ফাঁকা মাঠে যোগীর সভা
    আজকাল | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার বিজেপি আয়োজিত উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-এর জনসভায় ভরল না মাঠ। সভা বোলপুরের জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ময়দানে আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু কর্মী সমর্থকদের অভাবে সেই জায়গা কার্যত খালি পড়ে রইল। ভিড় হল নামমাত্র। অর্থাৎ বীরভূম জেলা তথা বোলপুরে বিজেপির সংগঠন যে শক্তিশালী নয় তা পরোক্ষভাবে বোঝা গেল এদিনের জনসভায়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে দিন কয়েক আগে রামপুরহাটের মাড়গ্রামেও আমজনতা উন্নয়ন পার্টির জনসভা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে জনসমাগম না হওয়ায় সেই সভা বাতিল করে দেন দলের নেতা হুমায়ুন কবীর। যদিও তিনি এর জন্য হাসনের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখকে দোষারোপ করে বলেন, তিনি তার সমর্থকদের ঢুকতে বাধা দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে বিজেপি কোনও অভিযোগ না করলেও তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা যে প্রকট হলো তা বলা বাহুল্য। 

    এদিন যোগী হেলিকপ্টারে ফিরতেই তাকে উদ্দেশ্য করে “বুলডোজার বাবা জিন্দাবাদ” স্লোগান শোনা যায়। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল।প্রসঙ্গত, বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন সভাপতি শ্যামাপদ মন্ডল, বোলপুরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষ, নানুরের প্রার্থী খোকন দাস এবং আউশগ্রামের প্রার্থী কলিতা মাজি। তবে লাভপুরের প্রার্থী দেবাশিস ওঝাকে এদিন দেখা যায়নি, যা নিয়ে দলের অন্দরে কিছুটা জল্পনা তৈরি হয়েছে।

    এই সভাকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বড়সড় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। জেলা পরিষদের ডাকবাংলো মাঠে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়, হেলিপ্যাডের ব্যবস্থা করা হয়, কর্মী-সমর্থকদের বসার জন্য বিস্তৃত আয়োজন রাখা হয় এবং উন্নত মানের শব্দ ব্যবস্থাও স্থাপন করা হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে নববর্ষের আগেই প্রচার চালানো হয়েছিল, এই সভায় বিপুল জনসমাগম হবে এবং তা নির্বাচনী প্রচারে নতুন গতি আনবে।

    কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। যোগী আদিত্যনাথ যখন মঞ্চে বক্তব্য রাখছিলেন, তখনও মাঠের বড় অংশ ফাঁকাই ছিল। আনুমানিক প্রায় ২০০০ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা এই আকারের সভার জন্য অত্যন্ত কম বলে মনে করছেন রাজনৈতিক  বিশ্লেষকরা।  এত বড় আয়োজনের পরেও জনসমাগম কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দলের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে এবং দাবি করছে, বীরভূমে বিজেপির মাটির শক্তি এখনও দুর্বল।

    এদিনের সভায় যোগী আদিত্যনাথ তাঁর বক্তব্য কংগ্রেস সিপিএম ও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস ও তৃণমূল মিলে বাংলাকে কাঠের পুতুল বানিয়ে দিয়েছে এবং কেন্দ্রের পাঠানো উন্নয়নের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার না হয়ে তা অসাধু হাতে চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালের আগে সেখানে অরাজকতা থাকলেও ডবল ইঞ্জিন সরকার আসার পর এখন সেই রাজ্য উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে।

    বাংলায় শিল্প পরিস্থিতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, যে বাংলা একসময় দেশের নেতৃত্ব দিত, সেই বাংলায় এখন অরাজকতা, গুন্ডারাজ ও মাফিয়ারাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকেও এদিন কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন যোগী আদিত্যনাথ। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও বাধা দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান দেওয়া হয় না। এমনকী, প্রয়োজনে উত্তরপ্রদেশের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ প্রসঙ্গেই ওঠে বুলডোজারের তত্ত্ব।
  • Link to this news (আজকাল)