‘বীরভূমে গুড়-বাতাসা ম্যাজিক নেই’, ভোটের আগে কাজলের মন্তব্যে কেষ্ট বললেন…
প্রতিদিন | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ভোটের (West Bengal Assembly Election) সপ্তাহখানেক আগে বীরভূমে ফের ঘাসফুল শিবিরে চোরা দ্বন্দ্ব! ফের উসকে উঠল কেষ্ট-কাজলের সংঘাত। হাসনের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখ কার্যত দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতির সাংগঠনিক দক্ষতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন। বীরভূমে আজকাল গুড়-বাতাসা বা চড়াম চড়াম ম্যাজিকের তেমন প্রভাব নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন কাজল শেখ। তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলেও অনুব্রত মণ্ডল এহেন মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বললেন, ”কে কোথায় কী মন্তব্য করছে, সেসবের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না।”
কয়লা পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডল সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি থাকাকালীন বীরভূমে ধীরে ধীরে প্রভাব বাড়িয়ে তুলছিলেন একদা তাঁরই অনুগামী কাজল শেখ। কিন্তু অনুব্রত মণ্ডল জামিনে ছাড়া পেয়ে জেলায় ফেরার পর তাঁকেই জেলা সভাপতি পদে রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে অবশ্য বীরভূমের সংগঠন পরিচালনার জন্য কোর কমিটি গড়ে দেওয়া হয় এবং তার সদস্য হিসেবে অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখ দু’জনকেই রাখা হয়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বার্তা দিয়েছেন, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে ছাব্বিশের ভোটে (West Bengal Assembly Election) এক হয়ে কাজ করতেই হবে। নইলে দল নজর রাখছে, কারা নির্দেশ অমান্য করছেন।
কিন্তু সেই বার্তা যে অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে বীরভূমের দলীয় নেতৃত্ব, তেমনটা নয়। যার প্রমাণ পাওয়া গেল ভোটের মুখেই। দিন দুই আগে সিউড়িতে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারমঞ্চে অনুব্রত ও কাজল একসঙ্গে থাকলেও তাঁদের মধ্যে যে চোরা দ্বন্দ্ব রয়েছে, সেই ছবি প্রকাশ্যে এসেছিল। কাজল এবং অনুব্রতকে একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে মমতা কিছু বলতে চাইলে অনুব্রত তাঁকে কার্যত উপেক্ষা করে অনুব্রতকে মঞ্চের অন্যপাশে সরে যেতে দেখা যায়। এরপর বৃহস্পতিবার কাজল শেখ মন্তব্য করেন, ”বীরভূমে এখন আর অনুব্রত মণ্ডল কোনও ফ্যাক্টর নয়। গুড়-বাতাসা ম্যাজিক নেই। উনি (অনুব্রত মণ্ডল) হাসনে প্রচার করতে না এলেও হবে।” এই মন্তব্যকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ অনুব্রত।
তিনি প্রতিক্রিয়ায় বললেন, “কে কোন বিষয়ে কী বললেন তাঁর উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ইতিমধ্যেই ব্লক ধরে ধরে বীরভূম জেলা জুড়েই সভায় অংশ নিয়েছি। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভায় উপস্থিত হচ্ছি। তাছাড়াও দল বীরভূম ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় জনসভায় অংশ নেওয়ার জন্য তালিকা পাঠিয়েছে। তাই শুধু বীরভূমে নয় অন্যান্য জেলাতেও অংশ নিচ্ছি নির্বাচনী জনসভায়।” এখন দেখার, কেষ্ট-কাজল দ্বন্দ্বের কোনও প্রভাব পড়ে কি না আসন্ন ভোটের ফলাফলে। বীরভূমে ১১-০ করার যে টার্গেট নিয়েছে তৃণমূল, তা কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটাই দেখার।