ভোটের কাজে বেসরকারি স্কুলের ৮ বাস অধিগ্রহণ, ‘স্বেচ্ছাচারী’ পুলিশকে বিঁধে রদ করল হাই কোর্ট
প্রতিদিন | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
পড়ুয়াদের স্কুল যাতায়াতের অনিশ্চয়তা ঘোচাতে বড় সিদ্ধান্ত। ভোটের কাজের জন্য কলকাতার একটি বেসরকারি স্কুলের আটটি বাসের অধিগ্রহণ বাতিল করল কলকাতা হাই কোর্ট। বাসগুলির অধিগ্রহণ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হয়নি। আদালতে জানান বিচারপতি কৃষ্ণ রাও।
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা সহ জেলায় জেলায় চলছে জোর কদমে প্রচার। এর মধ্যেই চিন্তা বাড়াচ্ছে বাসের অভাব। অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে স্কুল পড়ুয়াদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও। বেশ কয়েকটি স্কুল ইতিমধ্যেই ভোটের আগে অনলাইন ক্লাসের দিকে পা বাড়ানোর কথা চিন্তাভাবনা করছে। এই আবহে বৃহস্পতিবার কলকাতার একটি বেসরকারি স্কুলের বাস অধিগ্রহণের মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে।
আদালতে আবেদনকারী স্কুল সোসাইটির আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য জানান, ‘২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যানবাহন বিশেষভাবে ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়, সেগুলি শুধুমাত্র অনিবার্য পরিস্থিতিতে ও সর্বশেষ বিকল্প হিসেবেই নির্বাচনী কাজে অধিগ্রহণ করা যাবে।’ আদালতে আইনজীবীর অভিযোগ, ‘সংশ্লিষ্ট স্কুল বাসগুলির অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে এমন কোনও অনিবার্য পরিস্থিতি ছিল না।’ যদিও এই অভিযোগের বিপক্ষে প্রমাণ সহ যুক্তি দিতে না পারেননি রাজ্য সরকারের আইনজীবী। এই মামলায় বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানান, বাসগুলির অধিগ্রহণ স্বেচ্ছাচারী। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ৮ টি বাস অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এই মর্মেই বাসগুলির অধিগ্রহণ বাতিল করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। যদিও আদালতে কমিশনের বক্তব্য ছিল, ১০৭ ধারা বলে ভোটের কাজে পরিবহন অধিগ্রহণে তাদের অধিকার রয়েছে।
ভোটের সময় মূলত বাসে করেই পুলিশ, বাহিনীকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ইভিএম ও অন্যান্য সামগ্রী পরিবহন করার জন্য ব্যবহৃত হয় বাস। প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারদেরও ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার থেকে বুথে ও ভোট শেষে ফেরত আনতে বাসের প্রয়োজন হয়। জানা যাচ্ছে, আগামী ২৭ এপ্রিল থেকেই বিভিন্ন পরিবহণ ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। ফলে শহরের রাস্তায় গণপরিবহণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।