• ডেস্কে বসে কলমা পাঠ, খারাপ স্পর্শ! TCS নাসিক কাণ্ডের FIR-এ হাড়হিম করা অভিযোগ
    এই সময় | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • দেশের প্রথম সারির তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা TCS-এর নাসিক শাখায় ওঠা যৌন হেনস্থা ও জোর করে ধর্মান্তকরণের চেষ্টা নিয়ে তোলপাড় গোটা দেশ। ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আপাতত মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত, HR ম্যানেজার নিদা খান এখনও ফেরার। এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ৯টি FIR দায়ের করা হয়েছে। এই সকল FIR-এ উঠে এসেছে TCS-এর নাসিকের ওই অফিসের অন্দরের এক ভয়ঙ্কর ছবি। একের পর এক উঠে আসা তথ্যে হতবাক খোদ তদন্তকারীরাই।

    গত ২৫ মার্চ নাসিকের দেওলালি ক্যাম্প থানায় প্রথম এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন TCS নাসিকের এক মহিলা কর্মী। দানিশ শেখ নামে এক টিমলিডের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ উঠেছে। এমনকী দানিশ যে বিবাহিত এবং তার দুই সন্তান রয়েছে, সেই তথ্যও সে নির্যাতিতার কাছে গোপন করেছিল বলে অভিযোগ।

    নির্যাতিতা জানিয়েছেন, দানিশ নিজেকে ‘সিঙ্গল’ বা অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। তার আসল উদ্দেশ্য ছিল, তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা। এ ছাড়া অফিসের মধ্যেই তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন ওই মহিলা কর্মী।

    FIR-এ রয়েছে আরও ভয়ঙ্কর অভিযোগ। মুম্বই নাকা থানায় দায়ের করা এক FIR-এ TCS নাসিকের এক পুরুষ কর্মী অভিযোগ করেছেন, তওসিফ আত্তার ও দানিশ শেখের মতো অভিযুক্তরা গত চার বছর ধরে তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দিচ্ছিল।

    নিরামিষাশী হওয়া সত্ত্বেও জোর করে আমিষ খাওয়ানো, মাথায় ফেজ টুপি পরিয়ে ‘নমাজ’ পড়তে বাধ্য করা এবং ডেস্কের সামনে বসে ‘কলমা পাঠ’ করানোর মতো মারাত্মক অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকী, হিন্দু দেবদেবী সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগও করা হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।

    তওসিফ আত্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে এক মহিলা কর্মীর সন্তান নেই কেন— এই নিয়ে অত্যন্ত অপমানজনক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছিলেন। আসিফ আনসারি, শাহরুখ কুরেশি এবং রাজা মেমনের বিরুদ্ধে মহিলা সহকর্মীদের পিছু নেওয়া এবং অনবরত তাঁদের উপরে নজরদারি চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

    এ ছাড়া মহিলা কর্মীদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা অফিসের লবি এবং এমনকী মিটিং চলাকালীনও তাঁদের দিকে খারাপ ভাবে তাকাত এবং তাঁদের আপত্তিকর ভাবে স্পর্শ করত। অভিযুক্ত আসিফ আনসারি এবং শফি শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা মহিলা সহকর্মীদের শারীরিক গঠন নিয়ে অত্যন্ত অশ্লীল মন্তব্য করতেন। এক নির্যাতিতার অভিযোগ, মিটিংয়ের সময়ে শফি শেখ তাঁর দিকে কুরুচিকর ভাবে তাকিয়ে থাকত।

    অভিযোগের আঙুল উঠেছে কোম্পানির HR ম্যানেজার নিদা খানের বিরুদ্ধেও। এক নির্যাতিতার দাবি, হেনস্থার কথা জানালেও নিদা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টে সে নাকি বলেছিল, ‘MNC সংস্কৃতিতে এগুলো খুব সাধারণ বিষয়, এই নিয়ে অশান্তি কোরো না।’

    পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে ‘টার্গেট’ ঠিক করত। মূলত আর্থিক বা পারিবারিক সমস্যায় থাকা মহিলা কর্মীদের বেছে নিয়ে তাঁদের মগজধোলাই করা হতো। নাসিক পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত করছে।

  • Link to this news (এই সময়)