• পেনশন নেবেন না, রাজ্যসভাকে চিঠি লিখে জানালেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য
    এই সময় | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • সদ্যই রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছে তাঁর। তাঁকেই বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে সিপিএম। সেই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়ে দিলেন, রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ হিসাবে পেনশন নেবেন না তিনি। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে চিঠি লিখে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    এক সময়ে কলকাতা পুরসভার মেয়র ছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikashranjan Bhattacharya)। ২০২০ সালের ৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। গত ২ এপ্রিল রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছে বিকাশ ভট্টাচার্যের। এখন যাদবপুর (Jadavpur) আসন থেকে বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম (CPIM) প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই আইনজীবী। আর এই সময়েই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য হিসেবে তিনি কোনও আর্থিক পেনশন গ্রহণ করতে আগ্রহী নন। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে চিঠি লিখে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর ইচ্ছে যাতে সংসদীয় রেকর্ডে প্রতিফলিত হয় তাও দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন এই সিপিএম নেতা।

    উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার মেয়র থাকাকালীনও কোনও সাম্মানিক নেননি বিকাশ ভট্টাচার্য। তবে, প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা পেনশন (pension) হিসেবে পেতে পারতেন তিনি। এই টাকা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই আইনজীবী নেতা। বিকাশ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তাঁর এই পেনশনের কোনও দরকার নেই। এই সিদ্ধান্ত তাঁর নিজস্ব বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    এই কথা জানার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন অনেকেই। এই সিদ্ধান্তকে ‘ব্যতিক্রমী’ বলে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। যদিও সিপিএম নেতাদের একাংশ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

    উল্লেখ্য, যাদবপুর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা জমা দিয়েছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাতে যিনি জানিয়েছেন, তাঁর হাতে ৬৭ হাজার ৩৯১ টাকা নগদ রয়েছে। স্ত্রী ইভা ভট্টাচার্যের হাতে নগদ রয়েছে ২২ হাজার ৮৫০ টাকা। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৪ কোটি ২৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ২৮৮ টাকা। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ২ কোটি ৫৭ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৪৯ টাকার। স্ত্রীর কাছে মোট ৬০০ গ্রাম গয়না রয়েছে। এর বাজারমূল্য ১২ লক্ষ ৯ হাজার ৮০০ টাকা। তাঁর নিজের নামে কোনও বাড়ি বা স্থাবর সম্পত্তি নেই। তবে তাঁর স্ত্রীর নামে দু'টি বাড়ি রয়েছে, যার মোট মূল্য ৫ কোটি ১৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯৮০ টাকা। 

  • Link to this news (এই সময়)