• মধ্যরাতে গ্রেপ্তার! ‘প্যারালাল এজেন্ট’ তৈরি রাখার বার্তা মমতার
    এই সময় | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: ‘মধ্যরাতে অপারেশন’ চালিয়ে তৃণমূলের নেতাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে গত রবিবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরে নির্বাচন কমিশনের পুলিশ অবজ়ার্ভারদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো একটি মেসেজের স্ক্রিনশট (যার সত্যতা যাচাই করেনি ‘এই সময়’) শেয়ার করে তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগ তোলেন, সরাসরি তাঁদের শীর্ষ নেতা–মন্ত্রীদেরই টার্গেট করা হচ্ছে। বুধবার আবার কলকাতা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির সামনে হাজির হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই ঘটনাপ্রবাহ দেখেই বিধানসভা নির্বাচনের মুখে দলের সর্বস্তরের নেতা–কর্মীকে সতর্ক করলেন তৃণমূলনেত্রী।

    উত্তরবঙ্গের মাথাভাঙা, দিনহাটা, আলিপুরদুয়ারে বৃহস্পতিবার পরপর তিনটি সভা করেন মমতা। আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে দ‍লের নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সারা ভারত থেকে লুটেরা–বর্গিবাহিনী এসেছে। নির্দেশ দিচ্ছে, মধ্যরাতে গ্রেপ্তার করে দাও। বুথ এজেন্টদের গ্রেপ্তার করো। সেজন্য প্যারালাল এজেন্ট রেডি রাখুন। কোনও এজেন্টকে গ্রেপ্তার করলে মা–বোনদের এজেন্ট করে দাও। যাঁরা লড়াকু, লড়তে পারেন, তাঁদের এজেন্ট করে দাও।’ তৃণমূল নেতারা মনে করছেন, ভোটের ঠিক আগে আরও কোনও বড় অভিযান বা গ্রেপ্তারি হতে পারে আশঙ্কা করেই মমতা আগাম এই নির্দেশ দিয়েছেন। বিকল্প এজেন্ট তৈরি রাখার পাশাপাশি কোনও প্ররোচনায় পা না দিতেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর সতর্কবার্তা, এই ফাঁদে পা দিলেই গ্রেপ্তারির মুখে পড়তে হতে পারে বলে দলের নেতা–কর্মীদের। দিনহাটার সভায় মমতা বলেন, ‘নিজেরাই বোমা ফেলে এনআইএ (তদন্ত) করে দেবে। আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করবে। নিজেরাই কাউকে মেরে তোমাদের নামে দোষ দেবে। কেউ কোনও গণ্ডগোলে যাবে না। ৪ মে ফল বেরনোর পরে আমরা নারকেল নাড়ু, গুড়ের নাড়ু, তিলের নাড়ু, খইয়ের নাড়ু দেবো।’

    কলকাতা বিমানবন্দরে তাঁর গাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাজির হওয়ার অভিযোগ তুলে এ দিনও সরব হয়েছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের চেক করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। তৃণমূলনেত্রীর কথায়, ‘আমার সিকিউরিটিদেরও চেক করেছে। বিজেপির গুন্ডারা ২০–৩০ জন সিকিউরিটি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাদের বেলায় তোমরা কী করো?’ কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের গাড়ি চেকিং হবে না, সেই প্রশ্নও এ দিন তুলেছেন মমতা।

    কমিশনের তল্লাশি–নির্দেশিকা নিয়ে এ দিন সরব হন অভিষেকও। তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘শয়ে শয়ে কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায় মোতায়েন করা হয়েছে। পহেলগাম, দিল্লি, মণিপুর কিংবা নয়ডায় যাদের মোতায়েন করলে অনেক বেশি কার্যকর হতো। এদের এখন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তৃণমূলের নেতাদের টার্গেট করতে। আমার পরিবারও এদের নিশানায় রয়েছে। যা ইচ্ছা হয় আপনারা করুন। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনারা আর ১৯ দিন বাংলায় থাকবেন। যে গুজরাটিবাবুরা আমাদের দলীয় কর্মীদের বাড়িতে থাকার কথা বলে হুমকি দিচ্ছেন, ফল ঘোষণার এক ঘণ্টা পরে তাঁদের দেখা যাবে না।’

    বাংলায় ঘাঁটি গেড়ে থাকা বিজেপি নেতাদেরও নিশানা করেছেন মমতা। আলিপুরদুয়ারের সভায় তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘সমস্ত বহিরাগত আপনাদের এলাকায় বসে রয়েছে। আমার কাছে তথ্য আছে। বাইরে থেকে এসে হটেল, গেস্ট হাউসে বসে আছে। উত্তরপ্রদেশ–মধ্যপ্রদেশ–রাজস্থান–অসম থেকে আসছে। টাকা দেবে বলছে।... যাঁরা তৃণমূলকে গ্রেপ্তার করবে বলছেন, তাঁরা বিজেপির হোটেলে কত টাকা আছে উদ্ধার করুন। সেই টাকা কোষগারে দিয়ে দিন।’ ভিন রাজ্যের এই বিজেপি নেতাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলেও তোপ দেগেছেন মমতা। তৃণমূলনেত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ, ‘উনি চিরকাল বিভিন্ন রাজ্যের লোকেদের বিহারি বলেন। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গাদের উনি জামাই বলেন!’ এই টানাপড়েনের মধ্যে অভিষেক মনে করছেন, এই নির্বাচনে মোদী–শাহ নন, গেরুয়া শিবিরের আসল ট্রাম্প কার্ড হলো কমিশন। অভিষেক এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথকে বিজেপির ট্রাম্প কার্ড ভাবলে ভুল হবে। বিজেপির ছায়ায় থেকে প্রকৃত ট্রাম্প কার্ড হিসেবে লড়াই করছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপি নির্দেশই পালন করছে তারা।’

  • Link to this news (এই সময়)