• অধিকারী গড়ে ভিড়ে ঠাসা সভায় অভিষেকের গলায় সেই ‘মিরজাফর-গদ্দার’
    এই সময় | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: এ বারের ভোটে তৃণমূল পূর্ব মেদিনীপুরে যাঁদের প্রার্থী করেছে, তাঁরা ‘গদ্দারি’ কিংবা ‘বেইমানি’ করবেন না বলে ‘গ্যারান্টি’ দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কাঁথি মহকুমার ভগবানপুর ও পটাশপুরের প্রার্থীদের নিয়ে অভিষেক বৃহস্পতিবার সভা করেন। ওই এলাকা অধিকারীদের গড় হিসেবে পরিচিত থাকলেও এ দিনের জনসভায় বিপুল ভিড় হয়েছিল। বৈশাখের ভরদুপুরে প্রবল গরমের মধ্যে বিশাল জনসমাবেশ দেখে অভিষেক বলেন, ‘মাঠে যে মানুষ রয়েছেন তার দ্বিগুণ হেলিপ্যাডে রয়েছেন। বহু মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে শুনছেন। এই স্বতঃস্ফূর্ততা জানান দিচ্ছে, পূর্ব মেদিনীপুরের মাটি কোনও দিন মিরজাফর, বেইমান আর গদ্দারদের সমর্থন করে না। এটা সর্বাধিনায়ক সতীশ সামন্ত, সুশীল ধাড়ার মাটি, ক্ষুদিরাম বসুর মাটি, মাতঙ্গিনী হাজরার মাটি।’

    ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনের মধ্যে জোড়াফুল ৯টি–তে জয়ী হয়েছিল, পদ্মফুল ৭টি আসন পায়। ২০২৪–এর লোকসভায় বিজেপি আবার এই জেলার ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্রে লিড নিয়েছিল। অর্থাৎ, পরিসংখ্যানের দিক থেকে এই জেলায় লড়াই সেয়ানে–সেয়ানে।

    ভগবানপুরের সভায় অভিষেক বৃহস্পতিবার বলেন, ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার তৈরি করে এই মাটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিল। সেই মাটি মেরুদণ্ড বিক্রি করতে পারে না। বিপুল সংখ্যায় মা–বোনেরা উপস্থিত হয়েছেন। এই বারবেলায় যাঁরা ৫ ঘণ্টা ধরে মাঠে থাকেন, তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েই এসেছেন যে, তৃণমূলকে জেতাবেন। ২০২১–এর প্রতিশোধ নেবেন।’

    ভগবানপুর ও পটাশপুর দুটি কেন্দ্রেই জোড়াফুল এ বার নতুন প্রার্থী দিয়েছে। মঞ্চে অভিষেক তাঁদের নিজের দু’পাশে রেখে আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই দুই নতুন মুখ কোনও চাপের মুখে মাথা নত করবে না। যে কোনও পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যাবে। অভিষেকের কথায়, ‘আমরা এমন লোকেদের প্রার্থী করেছি জিতে যাঁরা আপনাদের পরিষেবা দেবে। পটাশপুর, ভগবানপুরে ছুটে ছুটে কাজ করবে। মানুষের পাশে দাঁড়াবে। বেইমানি কিংবা গদ্দারি করবে না।’

    পূর্ব মেদিনীপুরে দুই সাংসদ রয়েছে বিজেপির। কেন্দ্রে তাঁদের সরকার থাকা সত্ত্বেও বিজেপির সাংসদরা জেলার উন্নয়নের জন্য কী কাজ করেছেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা। অভিষেকের কথায়, ‘কাঁথির সাংসদ কে? ভগবানপুরের বিধায়ক কে? আমি উন্নয়নের খতিয়ান দিতে পারি। বিজেপি পূর্ব মেদিনীপুরে গত ১২ বছরে মোদী সরকারের আমলে কী কাজ করেছে সেই রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুক।’ শুধু ভগবানপুর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কতজন মহিলাকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ দিয়েছে, কতজনকে যুবসাথী দেওয়া হয়েছে, কত কাঁচা বাড়ি পাকা হয়েছে––এমন বিভিন্ন পরিসংখ্যান সভাতে তুলে ধরেন অভিষেক।

    যদিও বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দুর্গাপুরের জনসভা থেকে মমতা সরকারের উন্নয়ন নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন। শুভেন্দু বলেন, ‘উনি (মুখ্যমন্ত্রী) নাকি ২ কোটি চাকরি দিয়েছেন––সেই তালিকা দিন। উনি নাকি এত শিল্প এনেছেন যে, রাজ্যে শিল্প রাখার জায়গা নেই। ১৫ বছর রাজত্ব করার পরে কখনও ‘সার’ কখনও মাছ, কখনও ডিম, কখনও আলু নিয়ে ইস্যু করতে উনি ব্যস্ত।’

    ভোটের মুখে ভগবানপুরের জোড়াফুল প্রার্থী মানব পড়ুয়াকে এনআইএ ভূপতিনগর বিস্ফোরণের ঘটনায় নোটিস দিয়েছে। অভিষেক এ দিন মানবকে পাশে নিয়ে লড়াই আরও তীব্র করার ডাক দিয়েছেন। একই সঙ্গে অধিকারী–গড়ে ডিজে বাজবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। অভিষেকের কথায়, ‘৪ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। দুপুর ১ টার পর থেকে ডিজে বাজবে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সুরে। কে কত বড় নেতা, আমি তালিকা তৈরি করে রেখেছি। ব্লক ধরে ধরে, পঞ্চায়েত ধরে ধরে, সুদে আসলে হিসেব হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)