ভোটের মুখে ফের আইসি বদল। নরেন্দ্রপুর থানার আইসি সুরেন্দ্র সিং কে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। তাকে বদলি করা হয়েছে হাওড়া জিআরপিতে। নরেন্দ্রপুর থানার আইসি হিসাবে প্রসেনজিৎ বিষ্ণুকে দায়িত্ব দেওয়া হল। তিনি দীর্ঘদিন আইবি তে ছিলেন। সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগে বেশ কিছু বিষয়ে নরেন্দ্রপুর থানার আইসির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানায় বিজেপি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে সরানো হল বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে নির্বাচন কমিশনের তরফে এই জেলার একাধিক পুলিশ অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। শুক্রবারের মধ্যেই নতুন আইসিকে কাজে যোগদানের নির্দেশ কমিশনের।
দিন দশেক আগেই থানা ধরে ধরে ওসি বদল করেছে কমিশন। এই রদবদলে মূলত শহরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বা ওসি-দের সরিয়ে ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট, এসটিএফ বা স্পেশাল ব্রাঞ্চের মতো বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পার্ক স্ট্রিট থানার ওসি হীরক দলাপতি এবং বিজয়গঞ্জ বাজার থানার ওসি অংশুমান রায়কে লালবাজারের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টে বদলি করা হয়েছে। একইভাবে চেতলা থানার ওসি অমিতাভ সরকারকে এসটিএফে পাঠানো হয়েছে। নীলকান্ত রায়কে পার্ক স্ট্রিট থানার নতুন ওসি করা হয়েছে। শ্যামপুকুর থানার অতিরিক্ত ওসি রাজ কুমার মিশ্রকে গড়িয়াহাট থানার এবং এন্টালি থানার অতিরিক্ত ওসি মনীশ সিংকে বিজয়গঞ্জ বাজার থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসটিএফ থেকে মনোজ দত্তকে চেতলা থানার নতুন ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনিক এই রদবদলে হেয়ার স্ট্রিট ও ঠাকুরপুকুর থানার ওসি পদের ক্ষেত্রেও রদবদল দেখা গেছে।
ভোট ঘোষণার পর অ্যাকশনও শুরু হয়ে গিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণার পরপরই, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের সর্বোচ্চ স্তরে ব্যাপক বদল করেছিল নির্বাচন কমিশন। ভোট ঘোষণা মাত্রই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা চলে যায় নির্বাচন কমিশনের অধীনে। এরপর প্রচুর বদলও হয়। প্রসঙ্গত, ভোটের মুখে রাজ্যে মুখ্যসচিব থেকে পুলিশকর্তা, প্রশাসনিক আধিকারিকদের রদবদলের প্রতিবাদে হাই কোর্টে মামলা করেছিল শাসকদল । সেই মামলা খারিজ হয়ে যায় হাই কোর্টে। আদালত জানায়, সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ করেছে। কলকাতা হাই কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য। কলকাতা হাই কোর্টের সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি সর্বোচ্চ আদালত। এই আবহেই ফের নরেন্দ্রপুর থানার আইসি বদল করল কমিশন।