এই সময়: নামেই জাতীয় প্রতিষ্ঠান। রাজ্যে ভোটের আবহে রাজ্যের আর পাঁচটা সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত হাইস্কুল এবং কলেজের মতোই দুর্দশা শিবপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (আইআইইএসটি)। শিক্ষক–শিক্ষিকা–শিক্ষাকর্মীদের ভোটের ডিউটি পড়েছে। পাঁচ থেকে এগারো দিন ক্লাস বন্ধ থাকতে চলেছে। উপরন্তু ক্যাম্পাসে দু’টি বুথ হবে ভোটগ্রহণের জন্যে। ডিসিআরসি (ভোট–সামগ্রী বিলির কেন্দ্র) তৈরির প্রস্তুতিও চলছে জোরকদমে। ক্যাম্পাসে ৪ মে ভোটগণনাও হবে। একেবারে পাশেই ছাত্রীদের সবচেয়ে বড় হস্টেল—লেফটেন্যান্ট উইলিয়ামস হল অফ রেসিডেন্টস। পাশে রয়েছে আরও একটি লেডিজ হস্টেল। অল্প দূরে ছাত্রদের হস্টেল। সব মিলিয়ে এই তিনটি হস্টেলে ৫০০ ছাত্রছাত্রী থাকেন। ক’দিন পরেই, ৫ মে থেকে পরীক্ষা ইভেন (দুই, চার, ছয় ও আট) সেমেস্টারের। পড়ুয়াদের অভিযোগ, বুথ, ডিসিআরসি এবং গণনাকেন্দ্রের জন্যে ২৮ এপ্রিল থেকে ক্যাম্পাসের হস্টেলে পরীক্ষার প্রস্তুতিই নেওয়া যাবে না। অনবরত মাইক বাজবে। ফলে অনেক ছাত্রছাত্রীই পরীক্ষা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
আইআইইএসটি–র ১৭০–১৮০ জন শিক্ষক ও শিক্ষিকার ভোটের ডিউটি পড়েছে। শিক্ষাকর্মী ধরলে সংখ্যাটা সব মিলিয়ে চারশোর কাছাকাছি। অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং প্রফেসররা যথাক্রমে প্রিসাইডিং অফিসার ও মাইক্রো অবজারভারের ডিউটি পেয়েছেন। তাঁদের অনেকেরই আজ, শুক্রবার বাড়ি–বাড়ি গিয়ে প্রবীণ ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ভোটদানে তদারকি করার কথা। এই কাজের ফলে বিভিন্ন ক্লাস বন্ধ থাকবে। এই অবস্থায় আইআইইএসটি–র শিক্ষক সমিতির তরফে ডিরেক্টরেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বাংলা নববর্ষের দিন স্পেশাল জেনারেল মিটিং ডেকে শিক্ষক সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নির্বাচনের কাজ থেকে ছাড় না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষক–শিক্ষিকারা কোনও রকম অ্যাকাডেমিক কাজকর্ম করবেন না। তার মধ্যে পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি করা এবং ভাইবা নেওয়াও আছে। যদিও পরিস্থিতি আন্দাজ করে বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক–শিক্ষিকাদের প্রশ্ন করার দিনক্ষণ দু’দিন বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন ডিন।
আইআইইএসটির–র জনসংযোগ আধিকারিক তথা জয়েন্ট রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) নির্মাল্যকুমার ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অবশ্য দাবি করেন, ‘ভোটপর্বের মাঝে পড়াশোনা, প্রশ্ন তৈরি এবং পরীক্ষা নিয়ে কোনও সমস্যার কথা সাধারণ পড়ুয়া, শিক্ষক–শিক্ষিকা বা স্টুডেন্টস সেনেটের সাধারণ সম্পাদক আমাকে জানাননি। এ দিনও সব ক্লাস হয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও আমার কাছে রুটিন মেনে এসেছে।’ যদিও শিক্ষক–শিক্ষিকারা ভোটের কাজে যুক্ত থাকার কারণে সময়ে সিলেবাস শেষ করা ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিতে অসুবিধার কথা জানিয়ে ডিন–কে ইমেলে যে চিঠি পাঠিয়েছেন, তার প্রতিলিপি জয়েন্ট রেজিস্ট্রারকেও (শিক্ষা) পাঠিয়েছিলেন। ফলে নির্মাল্যর অসুবিধার কথা জানা নেই কী করে, সে প্রশ্ন উঠছে।