তিনি ছিলেন প্রাক্তন হকি খেলোয়াড়। খেলার ময়দান ছেড়ে এ বার তিনি ভোটের ময়দানে। পাহাড়ের ভোটে এ বার তিনি কালিম্পংয়ের পদ্মপ্রার্থী। তিনি কালিম্পংয়ের বাসিন্দা ভরত ছেত্রী, এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কালিম্পং থেকে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভরত। তিনি হকি খেলোয়াড় ছিলেন, কোচিংও করিয়েছেন। বছর দু’য়েক হলো তিনি হকির কোচের পেশা থেকে সরে বাড়িতে ফিরেছেন। কালিম্পংয়ের ডেলো পাহাড়ের কাছে ষোলো মাইলে নিজের জমিতে একটি হকি স্টেডিয়াম তৈরি করেছেন। সকলেই অনুমান করেছিলেন, খেলা নিয়েই হয়তো বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেবেন ভরত। তিনি প্রার্থী হওয়ায় কালিম্পংয়ে ভোটের রাজনৈতিক সমীকরণই বদলে গিয়েছে।
কালিম্পংয়ের বিদায়ী বিধায়ক রুদেন সাদা লেপচা, অনীত থাপার দল প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার প্রার্থী ছিলেন তিনি। এ বারও ওই দলেরই প্রার্থী তিনি। অজয় এডওয়ার্ডের দল জনশক্তি ফ্রন্টের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন বার্নার্ড ব্রিটো লেপচা। এলাকায় সজ্জন হিসেবে পরিচিত। তুলনায় নাকি নরমসরম মানুষ। নির্বাচনের ঝক্কি তিনি কতটা সামাল দিতে পারবেন তা নিয়ে অনেকেরই মনে নানা সন্দেহ ঘুরছে। এই আবহে রুদেনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠে এসেছেন ভরত।
এই আলোচনার পিছনে ভোটের নানা সমীকরণ কাজ করছে। প্রথমত কালিম্পং শহরে নেপালি ব্রাক্ষ্মণের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাঁদের সমর্থন ভরতের দিকে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, কালিম্পং বিধানসভা এলাকায় লেপচা ভোট প্রায় ২৯ হাজার। সেই ভোট কাটাকাটি হতে পারে রুদেনের সঙ্গে জনশক্তি ফ্রন্টের প্রার্থী বার্নার্ড ব্রিটোর। তৃতীয়ত, কালিম্পংয়ের বাসিন্দাদের উন্নয়ন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।
১০ নম্বর জাতীয় সড়কের পরিস্থিতি বেহাল। পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। গোটা বিধানসভা এলাকায় ২টি মাত্র সরকার পোষিত কলেজ রয়েছে। চাকরির অভাব নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। পর্যটনের হালও আহামরি কিছু নয়। এই ক্ষোভের ধাক্কায় রুদেন সাদা লেপচার গদি উল্টোবে নাকি অটল থাকবে, তা অবশ্য সময় বলবে। অন্যদিকে রুদেনের পাল্লা ভারী হওয়ার অন্যতম কারণ প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার সংগঠন। রুদেন বলেছেন, ‘কালিম্পংয়ের জন্যও রাজ্য সরকার এবং জিটিএ নানা পরিকল্পনা নিয়েছে। ফলে উন্নয়ন হবেই।’ অন্যদিকে, ভরতের বক্তব্য, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলার উন্নয়নে আগ্রহী। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে কালিম্পংয়ের বাসিন্দাদের।