এই সময়, জলপাইগুড়ি: লক্ষ্য ২০ হাজার ভোট। সেই দিকে তাকিয়ে জলপাইগুড়ি সদরের বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার গ্রামাঞ্চলে জোর প্রচার চালাচ্ছে ডান-বাম সমস্ত দল। কোনও দল প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে সীমান্তের উন্মুক্ত এলাকায় কাঁটাতার দেওয়ার পাশাপাশি জমির কাগজপত্র করিয়ে দেবে। আবার কোনও দল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কথা বলছে। তৃণমূল সীমান্তের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে পৃথক প্রশাসনিক ব্লক তৈরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। যদিও রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিশ্রুতির উপরে ভরসা রাখছেন না সীমান্তের বাসিন্দারা।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি, নগর বেরুবাড়ি, খাড়িজা বেরুবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত ছাড়াও গড়ালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের একাংশে বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। এখানে ভোটারের সংখ্যা কমবেশি ২০ হাজার। গত বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে এই এলাকায় এগিয়ে ছিল বিজেপি। এ বার গেরুয়া-গড়ে থাবা বসাতে কোমর বেঁধে নেমেছেন তৃণমূল-সহ অন্য দলের প্রার্থীরা। প্রচার তো বটেই, সীমান্তের গ্রাম নিয়ে ইস্তাহারেও একাধিক পরিকল্পনার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বামেদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৫ বছরে এলাকার উন্নয়নে কোনও নজর দেয়নি তৃণমূল সরকার। সীমান্তের বাসিন্দারা এখনও জমির কাগজপত্র পাননি। বাম প্রার্থী জিতলে রাস্তাঘাট তৈরি-সহ জমির কাগজপত্রের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হবে। তৃণমূল প্রার্থী মহিলা কলেজ স্থাপন, পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে পৃথক প্রশাসনিক ব্লক তৈরির কথা ইস্তাহারে রেখেছেন। বিজেপির ইস্তাহারেও সীমান্তের ফাঁকা জায়গায় কাঁটাতার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
যদিও এই প্রচার এবং ইস্তাহার নিয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই স্থানীয় বাসিন্দাদের। সীমান্তের বাসিন্দা জালালুদ্দিন মুহাম্মদ বলেন, 'এই ধরনের প্রতিশ্রুতি প্রতিটি নির্বাচনেই দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ কিছু হয় না। রাস্তাঘাট, স্থাস্থ্য কিছুই গত ২০ বছরে পালটায়নি। সাত কিমির বেশি এলাকায় কাঁটাতার নেই। জমি দিলেও কাঁটাতারের কাজ শুরু হয়নি বেশ কিছু জায়গায়।'