• কোনও দলের প্রচারেই গুরুত্ব নেই গোর্খাল্যান্ডের
    এই সময় | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি

    গত চার-পাঁচ দশকে বাংলার পার্বত্য অংশের রাজনীতি গোর্খাল্যান্ড ইস্যুকে অক্ষ ধরে আবর্তিত হয়েছে। পৃথক রাজ্যের দাবিতে বার বার উত্তাল হয়েছে পাহাড়। স্তব্ধ হয়েছে জনজীবন। বিগত বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে কমবেশি পক্ষে-বিপক্ষে গোর্খাল্যান্ড ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচার চালিয়েছে সব দলই। তবে এ বারে কোনও দলের প্রচারেই গোর্খাল্যান্ড ইস্যু সে ভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না। এমনকী, গোর্খাল্যান্ড শব্দটিও মোট কতবার শোনা গিয়েছে, তা গুনে বলে দেওয়া যায়।

    প্রশ্ন উঠেছে, গত চার দশক পাহাড়ের রাজনীতি যে ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেলিত হয়েছে, সেই গোর্খাল্যান্ড হঠাৎ নির্বাচনী প্রচার থেকে উবে গেল কেন? এর এক ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রাক্তন জিটিএ চেয়ারম্যান এবং বর্তমান সভাসদ বিনয় তামাং। তিনি বলছেন, 'পাহাড়ের প্রতিটি দল এ বার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে। জাতিসত্তা নিয়ে আপাতত কারও মাথাব্যথা নেই। কেউই আসন খোয়াতে চায় না।'

    পাহাড়ে বিধানসভা আসন তিনটি। দার্জিলিং, কার্শিয়াং এবং কালিম্পং। ২০২১-এ দার্জিলিং এবং কার্শিয়াংয়ে জেতে বিজেপি। অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার (বিজিপিএম) দখলে যায় কালিম্পং। এ বার বিজেপির সঙ্গে রয়েছে বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, জিএনএলএফ, সিপিআরএমের মতো দল। বিজেপি তিনটি আসনেই নতুন মুখ এনেছে। অনীতরাও কালিম্পং ছাড়া বাকি দু'টি আসনে নতুন মুখকে প্রার্থী করেছে। তবে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কথা উঠলেই যেন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠছেন অনীত। বলছেন, 'গোর্খাল্যান্ডের স্বপ্ন দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। রাজ্য সরকার তো আর গোর্খাল্যান্ড দিতে পারে না। তা হলে বিধানসভা নির্বাচনে এ সব কথা বলব কেন? এখানে জিতে বিধানসভায় যেতে হবে। তাই রাজ্য সরকারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে উন্নয়ন করা দরকার।'

    বিজেপির সংকল্পপত্রে গোখাল্যান্ড নিয়ে স্পষ্ট কিছু না থাকলেও গত মঙ্গলবার গঙ্গারামপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, 'বাংলা না-ভেঙেই সাংবিধানিক ভাবে গোর্খা সমস্যার সমাধান করে দেবো।' দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তাও বলেন, 'দার্জিলিংয়ের বাসিন্দাদের আকাঙ্খাকে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে পূরণ করা হবে।'

    ২০১৭-তে তৈরি হামরো পার্টি দার্জিলিং পুরসভা দখল করে সাড়া ফেলেছিল। সেই দলের অজয় এডওয়ার্ডস বর্তমানে ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের (আইজিজেএফ) সর্বোচ্চ নেতা। তিনি এ বারে দার্জিলিং আসনে প্রার্থী। তাঁর দল পাহাড়ের তিন আসনেই লড়ছে। বিজিপিএম এবং বিজেপির বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে পাহাড়ে গুরুত্বপূর্ণ দল আইজিজেএফ-ই। কিছুদিন আগে অজয়ের উদ্যোগে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি সেতু তৈরি হয়। ওই সেতুর নাম দেওয়া হয় 'গোর্খাল্যান্ড ব্রিজ'। ব্রিজের নাম যারা গোর্খাল্যান্ড রেখেছিল, সেই অজয়ের দলের প্রচারেও সে ভাবে শোনা যাচ্ছে না গোর্খাল্যান্ড-এর দাবি। ফলে ভোটে এবং তার পরবর্তীতে পাহাড়ের রাজনীতি কোনদিকে বাঁক নেয়, সেটাই এখন দেখার।

  • Link to this news (এই সময়)