• ভোট-যুদ্ধে নেই অশোক, শিলিগুড়িতে মাঠে এ বার গৌতম
    এই সময় | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পুরোটাই শিলিগুড়ি কেন্দ্রিক। অথচ কাউন্সিলার ভোট বাদ দিলে প্রথমবার শিলিগুড়িতে ভোটে দাঁড়াচ্ছেন গৌতম দেব! ১৯৮৯ থেকে এক টানা শিলিগুড়ি পুরসভার কাউন্সিলার। দু'বার জিতে (ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি) মন্ত্রীও হয়েছেন। তবু নিজের শহর শিলিগুড়ি বিধানসভার প্রার্থী হতে গৌতম দেবের কেন সাড়ে তিন দশক সময় লাগল, সেই প্রশ্নে সরগরম শিলিগুড়ি। অনেকেই বলছেন, দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে গৌতম যুক্ত থাকলেও রাজনৈতিক ভাবে তিনি শ্রদ্ধা করেন অশোক ভট্টাচার্যকে। ফলে, কোনও হেভিওয়েটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে চান না বলেই তিনি বরাবর শিলিগুড়ি বিধানসভা এড়িয়ে গিয়েছেন। ২০২১-য় বর্ষীয়ান ওই সিপিএম নেতা নিজেরই শিষ্য শঙ্কর ঘোষের কাছে হেরে যান। সে বার ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শঙ্কর। এ বার অশোক দাঁড়াননি। তাঁর শিষ্যকে টাইট দিতেই কি নেমেছেন গৌতম? এই প্রশ্নের সরাসরি কোনও উত্তর দেননি, আবার অশোক ভট্টাচার্যকে নিয়ে তাঁর শ্রদ্ধার কথাও লুকোননি। গৌতমের কথায়, 'অশোকদাকে আমি শ্রদ্ধা করি। আমি কখনই বলতে পারব না যে তিনি শিলিগুড়ির জন্য কিছু করেননি।'

    এ বারের নির্বাচনে শঙ্করকে দৌড় করাতে ইস্যু তৈরি করছেন গৌতম। 'সার' নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন তিনি। কয়েক দিন পরে বিজেপি এমনকী বামেরাও এ নিয়ে সরব হয়। শহরের গুরুং বস্তিতে নাবালিকার আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে শঙ্কর ধর্নায় বসলে ঘণ্টা খানেকের মধ্যে ওই বাড়িতে পৌঁছে মৃতার পরিবারের পাশে দাঁড়ান গৌতম। পুলিশকে ফোন করে, প্রকাশ্যেই ভর্ৎসনা করে মিডিয়ার প্রচারের আলো নিজের দিকে টেনে নেন। নির্বাচন ঘোষণার পরে 'টক টু মেয়র' নিয়ে শঙ্কর কমিশনে অভিযোগ জানান। গৌতম বাড়িতে বসে 'টক টু গৌতম' শুরু করে দেন। তৃণমূল নেতৃত্ব শিলিগুড়ির জন্য পৃথক ইস্তেহার প্রকাশ করলে বিজেপিকেও পাল্টা ইস্তেহার প্রকাশ করতে হয়। একদা বামপন্থী শঙ্করের বাম হাতে এখনও 'চে গেভারা'-র একটি ট্যাটু রয়েছে। সময় সুযোগ মতো সেই ট্যাটুর গল্প করে নির্বাচনী সভায় শঙ্করকে খোঁচাও দেন মেয়র।

    এই অসময়েও শিলিগুড়িতে বামেদের ভোটের অভাব নেই। ২০২১ এ শঙ্করের আচমকা দলবদলের জেরে বাম ভোটের অনেকটাই বিজেপির দিকে সরে যায়। সেই ভোট ফিরিয়ে আনতে সত্তর পেরিয়েও দলের প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তীকে নিয়ে শহরময় ছুটে বেড়াচ্ছেন অশোক ভট্টাচার্য। নিজের কাজের উদাহরণ টেনে ভোট চাইছেন তিনিও। প্রার্থী শরদিন্দুও আত্মবিশ্বাসী। তাঁর দাবি, 'বাম ভোট ফের আমাদের দিকে ফিরছে।'

    রাজনীতির অঙ্ক বলছে, বিরোধীদের ভোট কাটাকাটিতে বিজেপির যেমন লোকসান, তেমনই তৃণমূলের লাভ। শঙ্করের অবশ্য দাবি, 'গৌতমদা যাই করুন, তিনি শিলিগুড়ির মানুষের সমর্থন পাবেন না। মানুষ নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বাংলায় ডাবল ইঞ্জিনের সরকারই গড়বে।' প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কংগ্রেসও রয়েছে। দলের প্রার্থী অলক ধারা শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক। স্থানীয় স্তরে পরিচিতি রয়েছে তাঁরও। তবে ভোট কাটার প্রতিযোগিতায় 'হাত' কতটা লড়াই দিতে পারে সেটাই দেখার।

  • Link to this news (এই সময়)