এই সময়, হলদিয়া: বিধানসভা ভোটের মুখে একটি অডিয়ো রেকর্ড ভাইরালের ঘটনায় শোরগোল নন্দীগ্রামে। জানা গিয়েছে, যে অডিয়োটি ভাইরাল হয়েছে সেটি নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট সমর্থিত আইএসএফ প্রার্থী মহম্মদ শবে মিরাজ আলি খান এবং স্থানীয় সামসাবাদ অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শেখ মনসুর আলির টেলিফোনিক কথোপকথন। যা দিন কয়েক আগে হয়েছে। তবে এই অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় সংবাদপত্র।
তবে যাঁদের মধ্যে এই কথোপকথন হয়েছে তাঁরা দু'জনে তা স্বীকার করেছেন বলে দাবি। অডিয়োয় শোনা গিয়েছে, শেখ মনসুর আলি, মহম্মদ শবে মিরাজকে অন্য দলে না থেকে তৃণমূলকে সমর্থন করার আর্জি জানিয়েছেন। তৃণমূলের নেতা আইএসএফ প্রার্থীকে বারবার অনুরোধ করেছেন। শবে মিরাজ অবশ্য তৃণমুক্তে যোগ দেবেন না বলে ওই কথোপকথনে স্পষ্ট উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আইএসএফ প্রার্থী বলেন, 'নির্বাচন সংক্রান্ত কথোপকথন হয়েছে মনসুর সাহেবের সঙ্গে। উনি আমাকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। আমি রাজি হইনি। আইএসএফ আমাকে প্রার্থী করেছে। কী করে আমি অন্য দলে যেতে পারি, সেই যুক্তি দেখিয়েছি আমি। তবে মনসুরকে ডাউনে ফেলার জন্য তাঁরই সঙ্গীরা এটা ভাইরাল করতে পারেন।'
অন্যদিকে এই কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে মনসুর বলেন, 'শবে মিরাজের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি তৃণমূলের ভোট বাড়ানোর জন্য কথা বলেছিলাম। এতে লুকোনোর কিছু নেই। শুভেন্দু অধিকারী ষড়যন্ত্র করে তা ভাইরাল করিয়েছেন। নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী জিতছে।' ২০২১-এর বিধানসভা ভোটেও নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পালের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টেলিফোনিক কথোপকথন ভাইরাল হয়েছিল। যা রাজ্য তোলপাড় হয়ে রাজনীতি। ফের এ বার বিধানসভা নির্বাচনে সেই নন্দীগ্রামেই বিরোধী দুই রাজনৈতিক শিবিরের নেতৃত্বের টেলিফোনিক কথোপকথন ভাইরাল হওয়ার ঘটনা ঘটল। বিষয়ে কোনও তরফেই কোথাও অভিযোগ করা হয়নি। শুভেন্দুকে জড়িয়ে মনসুরের অভিযোগ নিয়ে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, 'অডিয়ো ভাইরালের ঘটনায় বিজেপির কোনও যোগ নেই। শুভেন্দু অধিকারীকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছে তৃণমূল।'