• প্রেমিকের কথায় প্রাক্তনকে চড়! রাগে নাবালিকাকে ‘গণধর্ষণ’, সদলবলে নারকীয় নির্যাতন বর্তমান প্রেমিকেরও
    প্রতিদিন | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • সিনেমার গল্পকেও হার মানায়! বর্তমান প্রেমিকের কথায় প্রাক্তন প্রেমিককে চড়। তার জেরে দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে এসে নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ প্রাক্তন প্রেমিকের বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়, অচৈতন্য কিশোরীকে নগ্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ফের তার উপর নারকীয় অত্যাচার চালায় বর্তমান প্রেমিক ও তার দুই বন্ধু। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ায় দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় এক নাবালক-সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    জানা গিয়েছে, দশম শ্রেণির ছাত্রী ওই কিশোরীর বাবা একজন ব্যবসায়ী। তাঁর অভিযোগ, বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল তাঁর মেয়ে। রাত পর্যন্ত বাড়ি ফেরেনি। খোঁজাখুঁজির পর রাত দশটা নাগাদ কাটোয়া এলাকায় একটি ইঁটভাটার কাছে পরিত্যক্ত একটি ঘর থেকে ওই কিশোরীকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁকে চিকিৎসায় নিয়ে যাওয়া হয়। জ্ঞান ফেরার পর কিশোরী জানায় তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। প্রত্যেকের নাম জানিয়ে দেয় কিশোরী। নির্যাতিতার বাবা সাতজনের বিরুদ্ধে এফ আই আর দায়ের করা হয়। পুলিশ গণধর্ষণ ও পকসো আইনে মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

    প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ওই কিশোরীর সঙ্গে আগে ধৃত রবিন রাজবংশীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ইদানিং ধৃত সুদীপ্ত দেবনাথের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। ঘটনার দিন অর্থাৎ বুধবার সন্ধ্যায় সুদীপ্তর সঙ্গে একসঙ্গে বসে বিয়ার পান করছিল কিশোরী। ওইসময় সুদীপ্ত তাঁর প্রেমিকাকে বলে, ” তুই যদি আমাকে ভালোবাসিস তাহলে তোর এক্স(রবিন)কে চড় মারতে পারবি?” রাজি হয়ে যায় প্রেমিকা। রবিনকে ফোনে ডাকার পর সুদীপ্তর সামনেই কিশোরী তাকে চড় মারে। এরপর রবিন সেখান থেকে চলে গিয়ে দুই বন্ধুকে ডেকে নিয়ে আসে। সুদীপ্ত তখন নেশার ঘোরে আচ্ছন্ন। অভিযোগ রবিন তার দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে কিশোরীকে নদীর বাঁধের ধারে নিয়ে যায়। তিনজন মিলে ধর্ষণ করে।

    কিছুক্ষণ পর সুদীপ্ত তাঁর প্রেমিকাকে খুঁজে না পেয়ে ফোনে ডাকে বন্ধুদের। ওই নাবালক সহ তিনজন আসে। নাবালক বাঁধে দাঁড়িয়ে থাকে। সুদীপ্ত-সহ তিনজন মিলে খুঁজতে খুঁজতে কিছুটা দূরে নগ্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কিশোরীকে। অভিযোগ তখন সুদীপ্ত ও তাঁর দুই বন্ধুর দ্বারা ফের গণধর্ষণের শিকার হয় কিশোরী। নাবালক অবশ্য কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়েছিল। তাঁর দাবি সে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ছিল না। এদিন ধৃত ছয়জনকে পাঁচ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। যদিও তাদের দুদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্যাতিতার এদিন ডাক্তারী পরীক্ষার পর আদালতে গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)