• সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা পবন খেরার, আগাম জামিনের মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকার আদালতের
    এই সময় | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। তাঁর অন্তর্বর্তী ট্রানজ়িট জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং তাঁর স্ত্রী রিণিকি ভুঁইয়া শর্মার সম্পর্কে মন্তব্যের কারণে দায়ের হওয়ার FIR-এর জন্য তেলঙ্গানা হাইকোর্ট থেকে এক সপ্তাহের অন্তর্বর্তী ট্রানজ়িট জামিন পেয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। বুধবার সেই জামিনের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় শীর্ষ আদালত। এ দিন সেই জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনই খারিজ হয়ে গেল। ফলে বেকায়দায় কংগ্রেস নেতা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর খেরাকে গ্রেপ্তারের পথ আরও সুগম হলো অসম সরকারের।.

    কংগ্রেস নেতা পবন খেরা-র মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সুপ্রিম কোর্ট একদিকে তাঁর ট্রানজিট আগাম জামিন বাড়ানোর আবেদন খারিজ করেছে, অন্যদিকে আগের অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও স্থগিত রেখেছে—ফলে তাঁর আইনি সুরক্ষা এই মুহূর্তে কার্যত শূন্য।

    ভোটের ঠিক মুখেই হিমন্তের স্ত্রী রিণিকির বিরুদ্ধে তিন দেশের পাসপোর্ট থাকা, দুবাইতে সম্পত্তি ও আমেরিকার কোম্পানিতে মোটা বিনিয়োগ থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন পবন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই পাসপোর্ট ও বিদেশি সম্পত্তির কথা নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। এই সমস্ত অভিযোগ ‘মিথ্যে’ দাবি করে ইতিমধ্যেই খেরার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছেন রিণিকি। হিমন্তও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মামলা করার। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই গুয়াহাটি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ FIR দায়ের করে।

    তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট খেরাকে এক সপ্তাহের জন্য ট্রানজ়িট অ্যান্টিসিপেটরি জামিন দেয়, যাতে তিনি অসম আদালতে গিয়ে জামিনের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু অসম সরকার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়।

    সুপ্রিম কোর্ট ১৫ এপ্রিল সেই হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় এবং জানায়, তেলঙ্গানা হাইকোর্টের এই মামলায় এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে খেরার অন্তর্বর্তী সুরক্ষা কার্যত উঠে গিয়েছে। পরবর্তীতে খেরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন যাতে তাঁর আগাম জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং তিনি আসামের আদালতে যাওয়ার সময় পান। কিন্তু আদালত সেই আবেদনও খারিজ করে দেয়। শুনানির সময়ে খেরার আইনজীবী তাঁর হয়ে যুক্তি দেন, ‘আমি কি সন্ত্রাসবাদী যে এতটুকু সময়ও দেওয়া হবে না?’—তবুও আদালত সময় বাড়াতে রাজি হয়নি।

    আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, খেরা চাইলে সরাসরি অসমের উপযুক্ত আদালতে গিয়ে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন এবং সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ সেই প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা হবে না।

    সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত পবন খেরার জন্য বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন তাঁর সামনে একমাত্র পথ—অসমের আদালতে গিয়ে আগাম জামিন চাওয়া। কিন্তু তার আগেই অসম পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারির আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)