বাঁকুড়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড শোয়ের দিনই বিরোধী শিবিরে ভাঙন! তৃণমূলে যোগ দিলেন বিজেপির যুবমোর্চার সহ-সভাপতি। অন্তত তেমনটাই দাবি শাসকদলের। দলবদলু বিজেপি নেতাও দাবি করলেন, তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেকের রোড শোয়ে জনপ্লাবন দেখে তিনি শাসকদলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই দিনে সিপিএমেরও এক পঞ্চায়েত সদস্য যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছে তৃণমূল।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাঁকুড়ার ওন্দায় তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত দত্তের সমর্থনে রোড শো করেছিলেন অভিষেক। সেখানে ভিড় চোখে পড়ার মতোই ছিল। তৃণমূলের দাবি, অভিষেকের ওই কর্মসূচির পরেই সন্ধ্যায় সুব্রতের হাত ধরে বিজেপি ছেড়ে দলে যোগ দিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতা ধনঞ্জয় মাঝি, সুনীল চৌধুরী এবং প্রদীপ ঘোষ। চূড়ামনিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিএম সদস্য কৃষ্ণপদ ঘোষ এবং চূড়ামণিপুর গ্রামের সিপিএম নেতা পার্থ মাকু।
ওন্দার তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত বলেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড শোয়ে মানুষের উচ্ছ্বাস, আশীর্বাদ দেখে ওরা বুঝে গিয়েছে, ওন্দায় তৃণমূল জিতছে। উন্নয়ন করতে হলে তৃণমূলকেই দরকার। তাই বিজেপি-সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন মানুষ।’ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানের পর ধনঞ্জয়ও বলেন, ‘আমি কয়েক বছর ধরেই বিজেপিতে ছিলাম। যুবমোর্চার সহ-সভাপতি ছিলাম। গতবার অমরনাথ শাখাকে আমরা বিপুল ভোটে জয়ী করেছিলাম। কিন্তু উনি কোনও উন্নয়ন করেননি। আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড শোয়ে জনজোয়ার দেখে তৃণমূলে যোগ দিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এখানে অনেক উন্নয়ন করেছে।’
এই যোগদানকে নাটক বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলের নেতা সুপ্রভাত পাত্র বলেন, ‘আমি ১৫ বছর ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। আমি কখনও দেখিনি, উনি কবে বিজেপি করেছেন আর কবে যুবমোর্চার পদে ছিলেন। এটা তৃণমূলের কৌশল। উনি ওদেরই দলের লোক। চমক দেখাতেই এই ভাবে প্রচার করা হচ্ছে। বিষয়টা বরং উল্টো। তৃণমূলের নিচুতলার লোকেরাই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ওন্দায় বিজেপি ২০ হাজারের বেশি ভোটে জিতবে।’