SUV নিয়ে পাঁচ নিরীহ পথচারীকে ধাক্কা মারার অভিযোগ উঠল বিজেপি-র বিধায়ক প্রীতম লোধির পুত্র দীনেশ লোধির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীর ঘটনা। তবে পথচারীদের আঘাত গুরুতর নয়। ধাক্কা মারার পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে চোটপাটও করেন দীনেশ। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেখা যাচ্ছে, দীনেশ বলছেন, ‘আমি তো হর্ন দিয়েছিলাম। ওরা সরল না কেন?’
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকালে নীলবাতি লাগানো একটি এসইউভি গাড়ি নিয়ে শিবপুরীর রাস্তায় টহল দিচ্ছিলেন দীনেশ। তার সামনে আবার বড় বড় করে ‘প্রীতম লোধি, MLA’ লেখা। অভিযোগ, রাস্তা দিয়ে এঁকেবেঁকে গাড়ি ছোটাচ্ছিলেন তিনি। ট্র্যাফিক আইনের পরোয়াও করছিলেন না। সেই সময়ে উল্টোদিক থেকে একটি মোটরবাইক আসছিল। দীনেশ সোজা গিয়ে তাঁদের ধাক্কা মারেন বলে অভিযোগ। রাস্তায় ছিটকে পড়েন তিন জন।
সেই সময়ে রাস্তার ধার দিয়ে যাচ্ছিলেন দুই মহিলা। তাঁরা ভয়ে সিঁটিয়ে যান। দীনেশ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে তাঁদেরও ধাক্কা মারেন। চোখের সামনে এমন ঘটনা দেখে ছুটে আসেন আসপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা। বিধায়ক-পুত্রের গাড়ি ঘিরে ফেলেন তাঁরা। তখনই রুদ্র মূর্তি ধরেন দীনেশ। গাড়ি থেকে নেমে এসে চোটপাট শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাফ কথা, ‘এতবড় গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন, ব্রেক দিতে জানেন না?’ দীনেশের রীতিমতো হুমকির সুরে বলেন, ‘বাইক নিয়ে তিনজনে হেলতে দুলতে আসছিল। আমার গাড়ির সাইরেন বাজছিল। হর্ন দিচ্ছিলাম। তার পরেও ওরা সরেনি কেন?’ নিজেকে বিধায়কের ছেলে বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে দীনেশের বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীনেশের গাড়ির ধাক্কায় সঞ্জয় পারিহার, আশিস পারিহার, অংশুল পারিহার, সীতা বর্মা এবং পূজা সোনি নামে মোট পাঁচজন চোট পান। তাঁদের মাথা এবং হাত-পায়ে চোট লেগেছে। ঘটনার পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দীনেশের বিরুদ্ধে কারেরা থানায় FIR দায়ের হয়েছে। তবে ছেলের পাশে দাঁড়াননি শিবপুরীর পিছোড় কেন্দ্রের বিধায়ক প্রীতম লোধি। আইন আইনের পথে চলবে জানিয়ে কিছুটা তিরস্কার করে বলেন, ‘আমি বিধায়ক। আমার কাছে পরিবার নয়, স্থানীয় মানুষই সবার আগে। ছেলে যদি কোনও অন্যায় করে শাস্তি পাবে। আইন আইনের পথে চলবে।’ আহতদের ন্যায়বিচারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।